মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি না হলে ব্যবস্থা: উপদেষ্টা জাহেদ

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 06 অক্টোবর 2026, 11:13 দুপুর • 3 বার পঠিত
নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি না হলে ব্যবস্থা: উপদেষ্টা জাহেদ

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতার মধ্যেও দেশের বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি না হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে বর্তমানে যথেষ্ট অস্থিরতা রয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার এলপিজির দাম সমন্বয়ের চেষ্টা করছে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমন্বয় করা দামে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

“খোলা বাজারে এলপিজির সরবরাহ ঠিক রাখা এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে সব জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনলাইন সভা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, “বিভিন্ন জেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বাজার তদারকি করা হচ্ছে। এর আগে অনিয়মের ঘটনায় জরিমানাও করা হয়েছে। এখন নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।”

এলপিজির বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও সরকারের আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, “জ্বালানি মন্ত্রী এলপিজি ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় ব্যবসায়ীরা বাজার স্বাভাবিক রাখতে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকার আশা করছে, চলমান উদ্যোগের ফলে এলপিজি নিয়ে তৈরি হওয়া সংকট ধীরে ধীরে কমে আসবে।”

নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার ঘটনা ঘটলে তা গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, “কোথাও যদি বিইআরসির নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি না হয়, তাহলে জনস্বার্থে গণমাধ্যম বিষয়টি সামনে আনতে পারে। সরকার তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

“এলপিজি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি পণ্য। এটি ছাড়া মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে এলপিজির সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।”

তেলের দাম কমলে সমন্বয়

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল হলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, “বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেটা ছিল, সেখান থেকে কিছুটা কমেছে। তবে বর্তমানে যে দাম দেখা যাচ্ছে, সেটি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে কি না, তা এখনই বলা কঠিন।”

জাহেদ উর রহমান বলেন, “যখন দেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল, তখনও বিশ্ববাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে কমেছিল। কিন্তু তিন-চার দিন পর আবার তা বেড়ে ১০৬-১০৭ ডলারে উঠে যায়। এখন আবার দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে।”

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলো তাদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর প্রভাবেও দাম কমেছে।

“কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। তাই ৮৯ ডলারে তেলের দাম এসেছে বলেই এটা স্থায়ীভাবে থাকবে, এখনই এমনটা মনে করা সহজ নয়। তেলের দাম যদি কম মূল্যে স্থিতিশীল হয়, তাহলে সরকার অবশ্যই দাম সমন্বয় করবে।”

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে, সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং বিনিয়োগ কমে যায়। বিনিয়োগ কমলে কর্মসংস্থানও কমে আসে। এতে মানুষ চাকরি হারায়, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না এবং বিদ্যমান চাকরিতেও বেতন বৃদ্ধির সুযোগ কমে যায়।

“এই পরিস্থিতি সরকারের জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়। সরকার বিষয়টি নিয়ে সংবেদনশীল। তেলের দামের পরিস্থিতি আমরা বিবেচনা করব।”

তিনি আবারও বলেন, “বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম দামে স্থিতিশীল হলে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”