‘সোনার ডিম’ উদ্ধার: আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডিম্বাকৃতির প্যাকেটে ভরে সোনার পেস্ট পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার যুবককে পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত এ আদেশ দেন বলে তথ্য প্রসিকিউশন বিভাগের পুলিশের এসআই আবু বকর ছিদ্দিকের।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে এয়ারএরাবিয়ার ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিমানবন্দরে আসা আরমান উদ্দীন সিদ্দিক নামে ওই যুবকের কাছ থেকে ৩টি ডিম্বাকৃতি প্যাকেটে ভরা সোনার পেস্ট উদ্ধার করেন ঢাকা কাস্টমস হাউসের গোয়েন্দারা। আরমান তার পায়ুপথে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ডিম্বাকৃতি প্যাকেটগুলো লুকিয়ে রেখেছিলেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা সোনার ওজন ১ হাজার ২৯০ গ্রাম। পরিশোধনের পর এগুলো থেকে আনুমানিক এক কেজি সোনা পাওয়া যেতে পারে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় ওইদিনই আরমানের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে কাস্টমস হাউজের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেভিনিউ অফিসার অব কাস্টমস এইচ এম মামুন কায়সার বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন।
তাকে শুক্রবার আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই আনিছুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে তার সহযোগী পলাতক অজ্ঞাত আসামিরা আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালানকারী দলের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থেকে স্বর্ণালংকার এনে চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকির মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমানের আর্থিক ক্ষতি সাধন করে আসছে।
তাকে মামলার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য হওয়ায় প্রকৃত তথ্য গোপন করে এলোমেলো তথ্য দেয়। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্বর্ণের অর্থের যোগানদাতা, বাংলাদেশে স্বর্ণ কোথায় কার কাছে হস্তান্তর করবে সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও গ্রেপ্তারসহ ঘটনার সহিত জড়িত স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের সম্ভবনা আছে। বিষয়টি রাষ্ট্রীয় শুল্ক ফাঁকি, বিমানবন্দর নিরাপত্তা এবং আন্তঃদেশীয় চোরাচালানের সংঘবদ্ধ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
এ সময় আসামির পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়।
গ্রেপ্তার আরমান চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নানুপুর গ্রামের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।