মজুরি আন্দোলন: শতাধিক ব্যক্তির লেনদেন খতিয়ে দেখছে এনবিআর
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের টানা বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিতের পদক্ষেপ নিতে পৃথক চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুটি গোয়েন্দা ইউনিট।
এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মালিকানাধীন বলে ইউনিট দুটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট বুধবার থেকে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশের সব ব্যাংক ও ব্যাংক বর্হিভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করতে চিঠি দিয়েছে গোয়েন্দা ইউনিট দুটি। চিঠিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পরিপালন করে সেটির প্রতিবেদন এবং সর্বশেষ স্থিতি তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে।
যেসব আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রতিষ্ঠানের বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাদের বেশির ভাগ চব্বিশের গণআন্দোলনে ক্ষমতার পালাবদল হওয়ার পর এখন কারাগারে রয়েছেন, কেউ আত্মগোপনে রয়েছেন এবং অন্যরা বিদেশে চলে গেছেন বলে বিভিন্ন সময় খবর হয়েছে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে তারা। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।
যাদের হিসাব জব্দের অনুরোধ করা হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তালিকায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। গত কয়েকদিন তারা সড়ক অবরোধ করেছেন। বেশ কিছু এলাকায় কারখানা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। কিছু এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
সিআইসির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “কাজটি দ্রুততর হওয়ার জন্য একাধিক কর্মকর্তাদের প্রতিষ্ঠান ধরে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তারা প্রত্যেকে ব্যাংকগুলোকে আলাদা আলাদা চিঠি পাঠিয়েছে।
“তবে দুই ইউনিটের প্রাথমিক হিসাব এমন ১২৫টি কোম্পানির মতো হবে। তাদের লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”
এ তালিকায় রয়েছে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু মুনশি; সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগ-বিষয়ক উপদেষ্টা বেক্সিমকো গ্রুপের সালমান এফ রহমান; খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম মুর্শেদী এবং সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক শাহরিয়ার আলম।
এছাড়া রয়েছেন সাবেক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী হামিদ গ্রুপের মালিক নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন, গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।
তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি।
তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দের জন্যও চিঠি দেওয়া হয়েছে।