শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মানুষ আর রাজনীতি করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 06 নভেম্বর 2026, 11:03 দুপুর • 7 বার পঠিত
ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মানুষ আর রাজনীতি করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের মানুষকে যারা হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, আলেম ওলামার রক্ত নিয়েছে তেমন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তিকে দেশের মানুষ আর রাজনীতি করতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে অনেক বিতর্ক হবে। রাজনৈতিকভাবে আমাদের মধ্যে দ্বিধা বিভক্তি থাকবে। আমাদের একেকজনের একেক রকমের আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতি থাকতে পারে। কিন্তু একটা প্রশ্নে আমরা একমত। এ ইদেশের মানুষকে যারা হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, দীর্ঘ ১৭ বছর যারা আলেম ওলামার রক্ত নিয়েছে সেই সব ফ্যাসিবাদী শক্তিকে দেশের মানুষ আর কখনো রাজনীতি করতে দেবে না।

“যারা তাদের প্রত্যাবর্তনকে সহজতর করতে চায়, যারা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতি করে ফ্যাসিবাদের আগমনকে সুগম করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে একটা কথা বলি। বাংলাদেশের মানুষ কোনদিন গণহত্যাকারীকে এ দেশে রাজনীতি করতে দেবে না।”

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভায় জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসায় বার্ষিক দ্বীনি মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলনে শুক্রবার দুপুরে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যারা গণহত্যা চালিয়ে এখনো পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে নাই, অনুশোচনা করে নাই, অনুতপ্ত নয়। যারা এই দেশে গণঅভুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, নিজের আপন ঠিকানায় দিল্লীতে বসে আছে। তারা কখনো এই দেশে এসে আর রাজনীতি করতে পারবে না।”

জনগণকে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, “সরকারকে অসহযোগিতা করতে পারেন। কিন্তু দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা করবেন না।

“যারা আন্দোলনের নামে আজ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, সমালোচনা করুন। গঠনমূলক সমালোচনা হতে হবে। সরকারকে অসহযোগিতা করতে পারেন। কিন্তু দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা করবেন না। আমরা চাই এ দেশটাকে ঐক্যবদ্ধ রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করি। রপ্তানি বৃদ্ধি করি। কর্মসংস্থান করি। সব জায়গায় বিদ্যুতায়ন করি। এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করতে হবে।”

মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলনে সমবেতদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, “আমরা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন চাই? প্রত্যাবর্তন চাই? তাহলে সেই ক্ষেত্র আজকে কারা তৈরি করে দিচ্ছে?

“যারা গার্মেন্টেসে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, তাদের পিছনে সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত আছে। এই দেশের দোসর আছে। যারা ইসলাম নাম বিক্রি করে রাজনীতি করছে। অথচ তাদের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ইসলামের ধারে কাছেও কিছু নাই। যারা ইসলামী দল বলে নিজেদের ঘোষণা করছে, তাদের দলীয় মনোগ্রাম থেকে ‘আকিমুদ দ্বীন’ বাদ দেওয়া হয়েছে, আপনারা জানেন। তারা মুখে এক কথা বলে কিন্তু তাদের দালিলিক প্রমাণ সেটা বলে না।

“তারা কখনো তাদের ইশতেহারে বলে নাই, ইসলামী শাসন চায়। তারা কখনো বলে নাই, তারা এই দেশে শরিয়াভিত্তিক আইন কানুন চায়। বরং উল্টা বলেছে যে, তারা শরিয়াভিত্তিক শাসনের বিপক্ষে।”

বিএনপি ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসি মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “আমরা সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযোজন করা দল। আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা এ দেশের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের সৃজন করেছি। যেখানে আমাদের সবারই একটা জাতীয় পরিচয় আছে। এই দেশে আমরা কখনো জাতির মধ্যে বিভেদ দেখতে চাই না।”

যারা ধর্মের নাম বিক্রি করে রাজনীতি করছে, তাদের কার্যকলাপে ধর্মীয় কোন প্রতিফলন নেই দাবি করে তার ভাষ্য, “তারা কেবলই এ দেশে বিভক্তির সৃষ্টি করছে। তারা স্বাধীনতার পূর্ব থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতি করে এইদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। আবার তারা সেই রাস্তায় গিয়েছে।

“আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, এ দেশের ছাত্র গণঅভুত্থ্যানের প্রত্যাশা অনুযায়ী দীর্ঘ আলাপের মধ্য দিয়ে যে জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে, সেটা তো বাস্তবায়ন করবই। এর বাইরে আমরা ইসলামী মূল্যবোধের সকল অংশ সংবিধানে ধারণ করব।

“আমাদের প্রতিশ্রুতি, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে- ‘মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা এবং বিশ্বাস’ বাদ দিয়েছিলেন, সেটা আমরা পুনঃস্থাপন করব। সংবিধানের প্রস্তাবনায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর উপর দৃঢ় আস্থা এবং বিশ্বাস’ সেই কথাটি পুনরায় আমরা ধারণ করব।

“এই সংবিধানের প্রথমেই ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’, যিনি ধারণ করেছিলেন বাংলাদেশে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আমরা সেই দলের পক্ষে রাজনীতি করি।”

অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীসহ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।