এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী।
শনিবার সকাল ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জিপিএ-৫ পাওয়া ৪০ হাজার ৮৪ জনের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন (ছাত্র ১৮, ১৫৫ জন এবং ছাত্রী ১৭,৭৯৩ জন)।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৫০ জন (ছাত্র ২,০২৮ জন এবং ছাত্রী ১,২২২ জন)।
এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম/বিএমটি, ভোকেশনাল ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৮৬ জন (ছাত্র ১৮০ জন এবং ছাত্রী ৭০৬ জন)।
বিজ্ঞানে জিপিএ-৫ অর্জনের হার সবচেয়ে বেশি, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের গ্রুপভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে গড় পাশের হার ৭৩.১২ শতাংশ। মানবিক বিভাগে গড় পাসের হার ৪২.১৭ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫০.৭৭ শতাংশ। আর ব্যবসায় শিক্ষায় ৫০.৭৭ শতাংশ।
তুলনামূলক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছর (২০২৫ সাল) জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন (ছাত্র ৩২,০৫৩ জন এবং ছাত্রী ৩৭,০৪৪ জন)। সেই হিসেবে এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯,০১৩ জন।
একই সঙ্গে পাসের হারও গতবারের ৫৮.৮৩ শতাংশ থেকে কমে এ বছর ৫২.১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন।
উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। অর্থাৎ, সকল শিক্ষা বোর্ডে উত্তীর্ণ মোট ছাত্রদের চেয়ে ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ, পূর্ণ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরে এবং সারা দেশে প্রথমবারের মতো অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া ফলাফল মূল্যায়নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব কেরামত আলীসহ সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।