সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে ফের শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 02 নভেম্বর 2026, 08:11 সকাল • 6 বার পঠিত
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে ফের শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েকদিন ধরে চলা শ্রমিক আন্দোলনে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ থামেনি।

সোমবার সকাল থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোর ফটকেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও শিল্প পুলিশ।

শিল্প পুলিশ জানায়, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সোমবার সকাল ৮টা থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত মোট কয়টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে, সে সংখ্যা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি শিল্প পুলিশ।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সাইনবোর্ড, ছয়দানা, মালেকের বাড়ি, ভোগড়া বাইপাস, নগরপাড়া ও দক্ষিণ সালনা এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজের সহকারী অধ্যাপক কামরুন নাহার জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উত্তরা থেকে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরা, সাইনবোর্ড, ওগরা বাইপাস ও নগরপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ওই মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ যায়। পরে অটোরিকশায় করে বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড পথ অতিক্রম করে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে কলেজে পৌঁছান তিনি।

এদিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলছেন, বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম বেশি, একটি গ্যাসের গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতেই তাদের ২ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়ে যায়। শুধু মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, তাদের বেতন কত করা হয়েছে তা ঘোষণা করতে হবে৷

তাদের দাবি, সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।

শ্রমিকরা আরও দাবি করেন, তারা ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ আন্দোলন করেছেন। কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ‘বহিরাগতরা’ জড়িত। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করেছেন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, “শ্রমিক আন্দোলনের কারণে রোববার গাজীপুরে শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবারও বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। তবে সোমবার মোট কতটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।”

এর আগে রোববার সকাল থেকেই গাজীপুরের কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ সময় কয়েকটি স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগ এবং বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।