বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ককপিটে পাইলটদের মারামারি: সৌদি আরবে ইসরায়েলগামী উড়োজাহাজের জরুরি অবতরণ

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 30 সেপ্টেম্বর 2026, 01:00 দুপুর • 3 বার পঠিত
ককপিটে পাইলটদের মারামারি: সৌদি আরবে ইসরায়েলগামী উড়োজাহাজের জরুরি অবতরণ

উড়ন্ত বিমানে দুই পাইলটের মারামারির জেরে দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ পথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, পাইলটরা পরস্পরের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ার পরই বিমান থেকে জরুরি সিগন্যাল পাঠানো হয়েছিল।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি থেকে প্রথমে একটি বিশেষ জরুরি সিগন্যাল পাঠানো হয় যা বিমানে অনাকাঙ্ক্ষিত বা বেআইনি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।

এর ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে বিমানটি ছিনতাই করা হয়েছে বলে মারাত্মক শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

উড়োজাহাজের প্রথম জরুরি সংকেত পাঠানোর আগেই সেটি ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে এসেছিল বলে জানিয়েছে ফ্লাইটরাডার২৪।

জরুরি সংকেতটি কে পাঠিয়েছিল সেটি তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট জানা যায়নি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় একপর্যায়ে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান জরুরি ভিত্তিতে আকাশে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

তবে ঠিক কী কারণে দুই পাইলটের মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি শুরু হয়েছিল, তাও এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, উড়োজাহাজের ক্রুরা পাইলটের কক্ষে ঢুকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই কো-পাইলট প্রধান পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি টিভিতে দেখানো একটি ভিডিওতে, ফ্লাইটের এক যাত্রী দাবি করেছেন যে, ছুরি মারার কারণে একজন পাইলট খুব গুরুতরভাবে আহত এবং অন্যজন সামান্য আহত হয়েছেন।

সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে,আহত উভয় পাইলটকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে নামার আগে বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজটি দ্বিতীয় আরেকটি সাধারণ জরুরি সিগন্যাল পাঠিয়েছিল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক সরকারি বিমানসংস্থা ফ্লাইদুবাই জানায়, যাত্রাপথে তাদের উড়োজাহাজ “একটি ঘটনার মুখোমুখি” হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেটি নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করেছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তীতে আরও হালনাগাদ জানানো হবে। ওদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি বিমান ছিনতাই ছিল বলে তারা মনে করছে না।

তবে দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মতে, উড়োজাহাজের ঘটনাটি এক পাইলাটের সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তারা বলেন,"ইসরায়েলের বর্তমান মূল্যায়ন হল, উড়োজাহাজের ঘটনাটি 'সন্ত্রাসী হামলার' চেষ্টা ছিল। পাইলটদের কারও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে এমনটি ঘটেনি।"

এর আগে তিন ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জানানো হয়।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং উড়োজাহাজে থাকা ইসরায়েলি যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম উড়োজাহাজের ঘটনাটি নিয়ে পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, একজন পাইলট আত্মহত্যার চেষ্টায় যাত্রীবাহী বিমানটি ক্র্যাশ করার (ধ্বংস করার) চেষ্টা করেছিলেন।

কিছু ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম পাইলটদের ওমানি ও আমিরাতি (ইউএই) নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছে। আবার অন্য কিছু সংবাদমাধ্যম বলেছে যে, তারা রাশিয়ান এবং ইউক্রেইনীয় ছিলেন।

উড়োজাহাজটি সৌদি আরবে অবতরণ করার পর ইসরায়েলে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক শুরু হয়। উল্লেখ্য, সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনও সরকারি কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।