ইসলামাবাদে ২২ হাজার পুলিশ মোতায়েন
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ যেন রাতারাতি পরিণত হয়েছে কনটেইনারের শহরে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ডাকা বিক্ষোভ সামনে রেখে রাজধানীর প্রধান সড়ক, প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো দুই স্তরে কনটেইনার সাজিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
একই সঙ্গে নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার পুলিশ সদস্য।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কনটেইনার বসিয়ে যান চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রাজধানীর সঙ্গে ইমরানের দল পিটিআই-শাসিত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
কনটেইনারের ফাঁক দিয়ে মোটরসাইকেল চালকদের চলাচলের চেষ্টা করতে দেখা যায়।আগামী রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পিটিআইয়ের বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী কর্মসূচিকে সামনে রেখে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই সরকারের নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করা হয়।
এরই অংশ হিসেবে ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকেও আটক করা হয়েছে।এএফপির হাতে আসা সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সমর্থকদের সংগঠিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাদের ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়েছে। পাঞ্জাবের জনশৃঙ্খলা রক্ষণ অধ্যাদেশের আওতায় এই আটকাদেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলা ও ইসলামাবাদ থেকে পিটিআইয়ের কয়েক ডজন আইনপ্রণেতা, আঞ্চলিক নেতা ও বিরোধী দলের কর্মীকেও আটক করা হয়েছে। পিটিআইয়ের তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আকরাম দাবি করেছেন, দলটির প্রায় ১ হাজার ৫০০ কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এটি দলের পক্ষ থেকে করা দাবি; কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ সংখ্যার স্বতন্ত্র নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থায় সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ, ধরপাকড় এবং মৌলিক অধিকার সীমিত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বাবু রাম পান্ত বলেছেন, ইমরান খানের পরিবার ও পিটিআই কর্মীদের লক্ষ্য করে নেওয়া পদক্ষেপ তাদের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশ, সংগঠন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের লঙ্ঘন।
অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার ইসলামাবাদে ‘লকডাউন’ দেওয়া হয়েছে-এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, কেউ ইসলামাবাদে এসে শহরের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারবে না।
৭৩ বছর বয়সি ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২৩ সালের মে মাসে সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভের পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতায় উসকানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা হয়। ইমরান খান ও তার আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে ইমরানকে নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যেই এসব মামলা করা হয়েছে।
ইমরানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের এই কর্মসূচি কয়েক মাসের মধ্যে দলটির বড় ধরনের রাজপথের কর্মসূচি হিসেবে সামনে এসেছে। ফলে বিক্ষোভের আগেই ইসলামাবাদকে যেভাবে কনটেইনার দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে, তাতে পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।