শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

গার্হস্থ্য অর্থনীতির অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, ‘পুলিশি হামলার’ বিচার দাবি শিক্ষার্থীদের

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 06 নভেম্বর 2026, 01:01 দুপুর • 5 বার পঠিত
গার্হস্থ্য অর্থনীতির অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, ‘পুলিশি হামলার’ বিচার দাবি শিক্ষার্থীদের

রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ) অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের ‘হামলার’ অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। নইলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে হুঁশিয়ারী দেন শিক্ষার্থীরা।

প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকের সামনে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির সামনের সড়কের অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করলে নীলক্ষেত মোড় থেকে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দুই দফা দাবি তুলে ধরেন তামান্না ইসলাম। দাবিগুলো হল-

মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

কলেজের সব শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তার পদত্যাগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে।

এর আগে কলেজের অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছার পদত্যাগের দাবিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতেও বিক্ষোভ করেন প্রতিষ্ঠানটির একদল শিক্ষার্থী। ওইদিন দিনভর বিক্ষোভ ও অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ রাখার পর রাত ২টা ১০ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।

আন্দোলনের কারণ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী শম্পা আখতার বলেন, “অধ্যক্ষ একটা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের দুই ছাত্রীর সিট বাতিল করেছে। ঘটনা হচ্ছে, দুর্গাপূজার আগে একটা অনুষ্ঠান হয় কলেজ অডিটোরিয়ামে। সেখানে আমরা অনুষ্ঠান সময়মত শেষ করতে পারিনি। তাই তিনি আমাদের দুজন শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করেন।

“পরে আমরা মাফ চাইলে অধ্যক্ষ আমাদের কাছে সাড়ে ১২ হাজার টাকা অডিটোরিয়ামের বিল দিতে বলেন। আমরা তো শিক্ষার্থী এত টাকা কোথা থেকে দেব? এ জন্য আজকে আন্দোলন করেছি। রাতে তিনি আমাদের পুলিশ এনে পিটিয়েছেন।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক মেহেরুন নেছা বলেন, “শিক্ষার্থীরা মিথ্যাচার করছে। তারা ১০টার প্রোগ্রাম ভোর ৫টায় শেষ করেছে। এ জন্য তাদেরকে শাস্তি দিয়েছি। তবে তারা যখন মাফ চেয়েছে, আমি তাদের ক্ষেত্রে নমনীয় হয়েছি।

“কিন্তু কলেজের তো কিছু নিয়ম আছে। তারা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে, তার বিল তো দিতে হবে। আমার অপরাধ কোথায় বলেন?”

বৃহস্পতিবার দিনভর বিক্ষোভ ও অধ্যক্ষ মেহেরুন নেছাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। লালবাগ থানার ওসি জামিল হোসেন রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “অপসরণের দাবিতে সকাল থেকেই অধ্যক্ষ মেহেরুন নেছাকে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানান। পরে রাত ১১টার দিকে পুলিশ খবর পেয়ে কলেজের ভেতরে ঢুকে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।”

তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের করে আনতে পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। এতে তাদের বেশ কয়েকজন ‘গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বলেন, “কলেজ কর্তৃপক্ষের আহ্বানে কেবলমাত্র অধ্যক্ষকে উদ্ধারের জন্যই বৃহস্পতিবার রাতে ওই ক্যম্পাসে পুলিশ গিয়েছিল। সেখানে শুধুমাত্র আমাদের নারী পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। নারী পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে বুঝিয়েছে।”