ফ্রান্সের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘নেতিবাচক’ করল ফিচ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ফ্রান্সের ঋণের বোঝা ও তা পরিশোধের ব্যয় নিয়ে নতুন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ।
সংস্থাটি দেশটির ঋণমান ‘এ প্লাস’ অপরিবর্তিত রাখলেও অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘নেতিবাচক’ করেছে।
শুক্রবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থাটি।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ফিচের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফ্রান্সের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১১৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৮ সালে তা বেড়ে ১২৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এর আগে গত আগস্টে দেওয়া পূর্বাভাসে ২০২৮ সালে ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১২২ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।
ফিচ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দুর্বলতা, সরকারি আর্থিক পরিস্থিতির নতুন করে অবনতি এবং ঋণের সুদহার বৃদ্ধি— সব মিলিয়ে ফ্রান্সের ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংযম বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
ফ্রান্সের ঋণের পরিমাণ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। এর ফলে ঋণ পরিশোধের জন্য দেশটিকে তুলনামূলক বেশি সুদ দিতে হচ্ছে, যা ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চ।
আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসে দুই দফায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের পর দেশটির ঋণ কমানোর সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখছে ফিচ।
সংস্থাটির মতে, দেশটির রাজনৈতিক বিভাজন এবং জনমত জরিপে উগ্র ডানপন্থী ও উগ্র বামপন্থী প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার কারণে একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য আর্থিক কৌশল’ নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
ফিচ আরও বলেছে, ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে নীতিনির্ধারণী বিতর্কে এখন পর্যন্ত এমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজেট ঘাটতি কমিয়ে ঋণের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমাদের আস্থা বাড়াতে পারে।’
সংস্থাটি জানায়, সরকারি সেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বড় ধরনের বিক্ষোভও আর্থিক সংস্কারের সামাজিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।
ফিচের এ মূল্যায়নের আগে শুক্রবার ফ্রান্সের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা আইএনএসইই জানায়, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের অর্থনীতিতে কোনো প্রবৃদ্ধি হয়নি। বরং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে দেশটির অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে।