বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

এলপিজি ‘সংকট’ কৃত্রিম কিনা, খতিয়ে দেখতে ডিসিদের নির্দেশ মন্ত্রীর

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 30 সেপ্টেম্বর 2026, 01:02 দুপুর • 4 বার পঠিত
এলপিজি ‘সংকট’ কৃত্রিম কিনা, খতিয়ে দেখতে ডিসিদের নির্দেশ মন্ত্রীর

দেশের কোথাও রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস-এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এ বিষয়ে তাদের তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

বুধবার সচিবালয় থেকে জেলা প্রশাসক-ডিসিদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে মন্ত্রী এ নির্দেশ দেন বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে এলপিজি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে কিছু জায়গায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দাম নেওয়া হতে পারে।

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কেন এলপিজির ঘাটতির কথা শোনা যাচ্ছে এবং কেন বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে, সেটি খতিয়ে দেখতে ডিসিদের বলেছেন মন্ত্রী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডিসিদের কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী বৈঠক করবেন। যেসব এলাকায় সরবরাহ কম পাওয়া যাবে, সেখানে তা বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে কিংবা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকতে বলেছেন মন্ত্রী।

এমন সময়ে এ নির্দেশ এল, যখন কয়েকদিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার না পাওয়া এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ আসছে।

গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি ব্র্যান্ডের সিলিন্ডারের সরবরাহ কম থাকার অভিযোগ করছেন ভোক্তারা। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার দুই হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রির কথাও বলেন তারা। অথচ সেপ্টেম্বরের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। অগাস্টে এর দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের জন্য দাম ১৩ টাকা কমানো হয়।

বিইআরসি বলেছে, মজুদ ও বোতলজাতকরণ থেকে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত কোনো পর্যায়েই কমিশন নির্ধারিত দামের বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা যাবে না।

দুই দিন আগে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে আমদানিকারক ও এলপিজি অপারেটররা দেশে এলপি গ্যাসের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছিলেন।

তবে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহে যেন ঘাটতি না হয় এবং কেউ যাতে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে তখনও সতর্ক করেছিলেন জ্বালানিমন্ত্রী।

ওই বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, অগাস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন।

এ তথ্যের ভিত্তিতে এলপিজির জোগান ও মজুদ পরিস্থিতি ‘ভালো’ বলে সভায় জানানো হয়। তবে দেশে তখন মোট কত এলপিজি মজুদ ছিল, সেই পরিমাণ জানানো হয়নি।