সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

তামিম হত্যা: মন্ত্রী রবিসহ ৯ জনকে মামলায় আসামি করার আবেদন নাকচ

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 05 অক্টোবর 2026, 08:40 সকাল • 5 বার পঠিত
তামিম হত্যা: মন্ত্রী রবিসহ ৯ জনকে মামলায় আসামি করার আবেদন নাকচ

দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনকে আসামি করার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত।

ঢাকার ত্রয়োদশ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত সোমবার এ আদেশ দেয়।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া বলেন, “মামলা থেকে ৯ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এজন্য বাদী রিভিশন করেন। আদালত রিভিশন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলবে।”

আদালতের এ আদেশে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল আলীম বলেন, “আমরা এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।”

অন্যদিকে রবিউল আলমের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আগে বলেছিলেন, বাদী ‘মিথ্যা অভিযোগে’ মামলা কর

যেভাবে হত্যা

২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার হাতিরঝিল থানার মহানগর আবাসিক এলাকায় নিজেদের বাসায় হামলার শিকার হন তানজিল জাহান তামিম। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ডেভেলপার কোম্পানি প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুনসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ১১ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শেখ রবিউল আলম রবির প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ তামিমের বাবার জমিতে চুক্তির ভিত্তিতে একটি ভবন নির্মাণ করেছিল। ওই ভবনের ফ্ল্যাট ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে ডেভেলপার কোম্পানি প্রতিনিধিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তামিমকে ‘পিটিয়ে হত্যার’ অভিযোগ পাওয়া গেছে।েছিলেন।

তদন্ত ও অভিযোগপত্র

মামলাটি তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআইয়ের এসআই জাকারিয়া আলম ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এবং এক কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দেন।

তবে শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায়’ কথা তুলে ধরে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ। অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে মামলাটি পুনঃতদন্তের আবেদন করেন তিনি।

তবে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ গত ৩ মার্চ বাদীর নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়, মামলাটি আরও তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।

এরপর ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেন সুলতান আহমেদ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে শুনানি হয়।

রিভিশনকারী সুলতান আহমেদের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল আলীম শুনানি করেন। রবিউল আলম ও মোহাম্মদ মামুনের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার উপস্থিত না থাকায় তার পক্ষে আইনজীবী হাফিজ হারুন অর রশীদ খান আদালতে সময়ের আবেদন করেন।

আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে ৫ অক্টোবর রায়ের দিন ধার্য করে। একই সঙ্গে রায়ের আগে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানির সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন বিচারক।

সোমবার আদেশের আগে আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার শুনানি করেন। পরে আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন নামঞ্জুর করে।

মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন—প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা আব্দুল লতিফ, সিইও ফাইজুল আহম্মেদ প্রকাশ সুমন, মামুনুর রশীদ মামুন, কোরবান আলী, এস এম ইব্রাহিম হোসাইন, বাধন, গাজী জাকির হোসেন, রাসেল, মনির হোসেন, শাহরাজ উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম ওরফে আমির, সুমন মল্লিক ও মাহফুজার রহমান।মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া নয়জন হলেন—মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন, শেখ রবিউল আলম, ফজলুর রহমান, আরিয়ান, নাসরিন আক্তার, রাসেল, মাহফুজুর রহমান, মোজাম্মেল হক কবির ও ইমাম হোসেন।