তাইওয়ানে ধেয়ে যাচ্ছে টাইফুন চাম্পি, প্রায় ১ হাজার ফ্লাইট বাতিল
তাইওয়ানে টাইফুন চ্যাম্পি ধেয়ে আসতে থাকায় প্রায় সব কিছু বন্ধ হয়ে গেছে। ঝড়্রের প্রভাবে বয়ে যাচ্ছে তীব্র বাতাস। মুষলধারে বৃষ্টিও হচ্ছে। ঝড়ের গতি এরই মধ্যে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে থাকলেও এটি এখনও সরাসরি তাইওয়ানে আঘাত হানার আশঙ্কা আছে।
শক্তিশালী টাইফুন 'চাম্পি' তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে বয়ে যাওয়ার কারণে শুক্রবার পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
পরিবহনমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীন ফ্লাইট বাতিল হয়েছে ২৬২ টি। এর সঙ্গে ৭১৭ টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টি তাইওয়ানের কাছাকাছি চলে আসায় সেখানকার স্কুল এবং অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও এ ঝড় স্থলভাগে আঘাত হানবে কি না তা এখনও অনিশ্চিত, তবে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে, এই ঝড়ের কারণে শনিবার পর্যন্ত তাইওয়ানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৯০ সেন্টিমিটার (৩৫ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং প্রবল বাতাস বয়ে যেতে পারে।
এক সময়ের সুপার টাইফুন এবং এবছর প্রশান্ত মহাসাগরের অন্যতম শক্তিশালী ঝড় চাম্পি এখনও এর কেন্দ্রের কাছাকাছি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার (১১৯ মাইল) বেগে বয়ে যাচ্ছে। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) একথা জানিয়েছে।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, ঝড়টি তাইওয়ানের প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছে। ঝড়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি শুক্রবার দেরিতে তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব পাশ ঘেঁষে বয়ে যাবে, চীনের উপকূলের দিকে উত্তর দিকে মোড় নেবে এবং পরবর্তীতে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে অগ্রসর হবে।
ঝড়ের প্রভাবে এরই মধ্যে প্রবল বাতাস এবং বৃষ্টিতে তাইওয়ানে একজন নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছে।এই সংখ্যা আগে ১৭১ জন বলা হলেও পরে সংশোধন করে কমানো হয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, পাহাড়ি এলাকাগুলো থেকে ২,৬৩৯ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তাইপাওয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ৭৭,০০০-এরও বেশি বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যদিও ইতিমধ্যে অধিকাংশ বাড়ির বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরকে উত্তপ্ত করে তোলা এবং একের পর এক ঝড় সৃষ্টিকারী শক্তিশালী 'সুপার এল নিনিও’-র প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র টাইফুনগুলোর মধ্যে সর্বশেষ হল 'চাম্পি’। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে যখন এই ঝড় ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছিল, তখন সেটি ছিল এ বছরের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়।