শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
রাজনীতি

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে না ভারত

আশরাফ উল আসাদ 10 সেপ্টেম্বর 2026, 12:26 রাত 105 বার পঠিত
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে না ভারত

ভারত যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে না, আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে। কূটনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে একটি অলিখিত নিয়ম প্রচলিত—বাংলাদেশ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অবস্থান ফাঁস করতে ভারতীয় রাষ্ট্রযন্ত্র প্রায়শই এই বাংলা দৈনিকটিকে বেছে নেয়। ফলে এই প্রতিবেদনটি নিছক কোনো সাধারণ সংবাদ নয়, বরং দিল্লির একটি সুচিন্তিত বার্তা। এর পরিষ্কার অর্থ হলো—ডিসেম্বরে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়াতে শেখ হাসিনার ঢাকায় ফেরার কোনো সম্ভাবনা কার্যত নেই।

আইনগতভাবে শেখ হাসিনা এখন ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন এবং তিনি নয়াদিল্লির কাছেই অবস্থান করছেন। ভারত সরকার কখনোই তাকে ঢাকায় ফিরতে দেবে না, এমনকি তিনি নিজে চাইলেও না। তিনি চাইলেই একটি ফ্লাইট বুক করে বা সীমান্ত দিয়ে হেঁটে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন না; এর জন্য নয়াদিল্লির সুস্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন, যা ভারত কখনোই দেবে না।

এর পেছনে রয়েছে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিল হিসাব-নিকাশ। বিজেপি সরকার তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দিলে এবং এরপর তিনি জনরোষে নিগৃহীত হলে কিংবা আইনি প্রক্রিয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে, বিজেপিকে দেশের ভেতরেই তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—যাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে—তার এই পরিণতির জন্য সরাসরি বিজেপি সরকারকেই দায়ী করবে।

ফলে কোনো ভারতীয় সরকারই তাকে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি নেবে না। তাদের একমাত্র কার্যকর পথ হলো ঢাকায় একটি ভবিষ্যৎ বন্ধুভাবাপন্ন সরকারের সঙ্গে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো, যা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা নাকচ করবে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশের কোনো সরকারই এমন শর্তে রাজি হবে না।

অদূর ভবিষ্যতে হয়তো ভারতীয় রাষ্ট্রযন্ত্র তার কণ্ঠরোধ করবে এবং এটিকে ঢাকার ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে, যাতে বাংলাদেশ চীন ও পাকিস্তানকে জড়িয়ে কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ না দেয়। শেখ হাসিনা নিজেও এই পরিণতি আঁচ করতে পেরেছেন। কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়াল'-কে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে শেখ সেলিমকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, গণমাধ্যমে তার সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয়তো শিগগিরই বন্ধ হতে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। নয়াদিল্লির কাছে তারা এখন শুধুই 'ব্যয়যোগ্য সম্পদ'। তাদের হস্তান্তর করা হলে তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যে বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিনিয়োগ করা হয়েছিল, তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অধ্যাপক ইউনূসের দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে সেই চেষ্টা যেমন সফল হয়নি, তেমনি বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সমর্থনের কারণে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সম্ভাবনা ব্যর্থ হতে চলেছে।

#রাজনীতি #জাতীয়