সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
অর্থনীতি

পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির পথ আবারও খুলল

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 19 অক্টোবর 2026, 12:59 দুপুর • 4 বার পঠিত
পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির পথ আবারও খুলল

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়াই দেশের পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির দুয়ার খুলল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি রোববার সংশোধিত সরাসরি তালিকাভুক্তি বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

  • এ আদেশ অনুযায়ী, সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবপুরো সরকারি মালিকানাধীন বা সরকারের অন্তত ৫১ শতাংশ মালিকানাধীন কোম্পানি;

  • যে কোম্পানিতে সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানা রয়েছে এবং কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশ রয়েছে;

  • সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি বা বিদেশিদের অন্তত ৫১ শতাংশ মালিকানাধীন কোম্পানি;

  • সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী অন্তত ৫০০ কোটি টাকা নিট সম্পদমূল্যের তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিমা কোম্পানি;

  • বছরে অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা টার্নওভার রয়েছে—এমন কোম্পানি;

  • কমিশনে নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি বা ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কোম্পানি এবং

কমিশন ঘোষিত যোগ্য কোম্পনতুন বিধিমালা অনুযায়ী, যোগ্য কোম্পানির বিদ্যমান শেয়ারধারীরা নিজেদের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে পারবেন। তবে এ জন্য কোম্পানির অন্তত পাঁচ বছরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম থাকতে হবে।

পাশাপাশি গত দুই অর্থবছরে মূল ব্যবসা থেকে মুনাফা এবং সর্বশেষ অর্থবছরে পরিচালন কার্যক্রম থেকে ইতিবাচক নগদ প্রবাহ থাকতে হবে।

তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় কোম্পানির অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির জন্য ছাড়তে হবে। শেয়ারের সর্বনিম্ন প্রস্তাবিত বিক্রয়মূল্য ঠিক করতে হবে রেফারেন্স মূল্যের চেয়ে অন্তত ২৫ শতাংশ কমে।

রেফারেন্স মূল্য হচ্ছে কোনো শেয়ারের দাম নির্ধারণের জন্য ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত মূল্য। সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে এ মূল্যকে ভিত্তি ধরে শেয়ার বিক্রির সর্বনিম্ন প্রস্তাবিত মূল্য ঠিক করা হয়। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, রেফারেন্স মূল্য ১০০ টাকা হলে সর্বনিম্ন প্রস্তাবিত বিক্রয়মূল্য হবে ৭৫ টাকা।

বিধিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির পর কোম্পানির স্পনসর ও পরিচালকদের সম্মিলিত মালিকানা কমপক্ষে ৩০ শতাংশ রাখতে হবে। এ ছাড়া তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বিক্রির জন্য নির্ধারিত শেয়ারের ১ শতাংশের বেশি কোনো একক ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী কিনতে পারবেন না।

বিধিমালায় শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। সরাসরি তালিকাভুক্তির প্রথম লেনদেনের দিন থেকে এক বছর পর্যন্ত অফারদাতা কোম্পানির কোনো শেয়ার কিনতে পারবেন না।

এ ছাড়া এক পূর্ণ অর্থবছর শেষ হওয়ার পর প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না হওয়া পর্যন্ত অফারদাতারা নিজেদের হাতে থাকা শেয়ারের ৫০ শতাংশের বেশি বিক্রি করতে পারবেন না।

২০০৬ সালে সরাসরি তালিকাভুক্তির পদ্ধতি চালুর পর থেকে শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও পাঁচটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো হলো— ডেসকো, পাওয়ার গ্রিড, যমুনা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও তিতাস গ্যাস। বেসরকারি কোম্পানি হলো— শাইনপুকুর সিরামিকস, এসিআই ফর্মুলেশনস, নাভানা সিএনজি, ওশান কনটেইনারস ও খুলনা পাওয়ার কোম্পানি।

যদিও ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়, এ পদ্ধতিতে কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিই শেয়ার ছাড়তে পারবে। তবে সিদ্ধান্তের আগে আবেদন করায় ওশান কনটেইনারস ও খুলনা পাওয়ারকে ২০১০ সালে তালিকাভুক্তির অনুমোদন পায়।

এরপর কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ ছিল।ানি।

ে—