শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

মুসলিম বিশ্বে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের ব্যঙ্গ

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 17 অক্টোবর 2026, 08:05 সকাল • 4 বার পঠিত
মুসলিম বিশ্বে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের ব্যঙ্গ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনি প্রচারণায় ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে কটাক্ষ করতে গিয়ে মুসলিম বিশ্বে ‘মোহাম্মদ’ নামের ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, শুক্রবার জর্জিয়ার ডাল্টনে সমবেত জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, “জানেন তো, পশ্চিম এশিয়ার কারও নাম নিয়ে যদি কোনো সংশয় থাকে, তবে স্রেফ ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাক দিন।”

তিনি এও বলেন, “এতে নাম সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। ‘হ্যালো মোহাম্মদ’, আমি বছরের পর বছর ধরে এমনটাই করে আসছি। আমার কখনোই ভুল হয়নি।”

মুসলিমদের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ সবচেয়ে প্রচলিত পুরুষ নামগুলোর একটি। ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা নবী মোহাম্মদের নাম অনুসারে মুসলিমরা অনেকেই তাদের ছেলেদের এই নাম রাখেন।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাতে ডাল্টন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, “ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউই প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।”

এরপর তিনি মঞ্চে কাল্পনিকভাবে ‘মোহাম্মদ’ নামের কয়েকজনকে প্রেসিডেন্ট হতে আগ্রহী কি না, তা জিজ্ঞাসা করার ভঙ্গি করে ব্যঙ্গ করেন।

রয়টার্স লিখেছে, ২০২৪ সাল থেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে ট্রাম্পের এই রসবোধে উপস্থিত জনতার কাছ থেকে খুব একটা সাড়া মেলেনি; বরং তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ নিরুত্তাপ।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন মানবাধিকার কর্মী ও বিভিন্ন মুসলিম অধিকারবিষয়ক সংগঠন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের হেয় প্রতিপন্ন করে এবং বিদ্বেষমূলকভাবে উপস্থাপন করে।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় এমন বক্তব্য আরও উসকে দিয়েছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে সোমালি ও মুসলিম আমেরিকানদের তিনি বারবার নিশানা করছেন।

এদের মধ্যে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ এবং মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর, যিনি একসময় সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

সমাবেশে ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রায় সাত মাস আগে তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

এদিকে চলতি বছরের শুরুর দিকে মুসলিম অধিকার সংস্থা ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ (সিএআইআর) একটি বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামভীতি বৃদ্ধির পেছনে তার অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থান এবং ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ দমন আংশিকভাবে দায়ী।