মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে মন্তব্যে ভারতের ওপর চাপ বাড়ছে
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে দুই নেতার করা অবমাননাকর মন্তব্যে ভারতের বৈশ্বিক কুটনৈতিক সম্পর্ক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। বাজে মন্তব্য করা একজনকে বরখাস্ত আর অন্যজনকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দেওয়ার পরও বিরাট চাপের মুখে আছে দেশটির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সেই চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে আরো। কমার নাম নেই। খবর বিবিসির।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, মালদ্বীপ, জর্ডান, লিবিয়া ও বাহরাইন যোগ দিয়েছে মুসলিম বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যারা ভারতের দুই নেতার মন্তব্যের ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এর আগে কুয়েত, ইরান ও কাতার তাদের দেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ডেকে একরকম ভর্ৎসনা করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। সৌদি আরবও শক্ত বিবৃতি দিয়েছে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে।
ভারতীয় কুটনীতিবিদরা ঠাণ্ডা মাথায় বিষয়টা সামলানোর চেষ্টা করছেন। এইসব দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খুব ভালো। কিন্তু ভারতীয় কুটনীতিকরা হঠাৎ ওঠা এই ঝড়ে দিশা খুঁজে পাচ্ছেন না। সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে মনে হচ্ছে।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে আছেন নুপুর শর্মা। হিন্দু জাতীয়তাবাদের দল বিজেপির মূখপাত্র ছিলেন। গত মাসে ভারতীয় একটি টেলিভিশন সংবাদ বিতর্কে মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। তার সেই মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়। বিজেপির দিল্লি শাখার মিডিয়া প্রধান নাভিন জিন্দাল নুপুর শর্মাকে সমর্থন করে এবং নিজস্ব মত দিয়ে একটি টুইট করেন। তাতে তার কথারও প্রতিবাদ হয়।
সমালোচকরা বলছেন, নুপুর আর জিন্দালের মন্তব্যের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে ভারতে চলা ধর্মীয় টানাপড়েনের একটি প্রমাণ। ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মুসলমানদের ওপর আক্রমণ আর হেট স্পিস খুব বেড়েছে।
ওই্ দুজনার মন্তব্য, বিশেষ করে নুপুর শর্মার বক্তব্যে ভারতীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। কিছু রাজ্যে তারা প্রতিবাদ করে। উত্তর প্রদেশে প্রতিবাদ করতে গিয়ে সংঘর্ষ দেখা দেয়।
দুই নেতাই তাদের মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। বিজেপি রোববার নুপুরকে বরখাস্ত আর জিন্দালকে বহিষ্কার করেছে।