বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

‘মাদার ট্রি' রক্ষার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 15 অক্টোবর 2026, 11:33 দুপুর • 7 বার পঠিত
‘মাদার ট্রি' রক্ষার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

পরিবেশ রক্ষায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশে ‘মাদার ট্রি’ চিহ্নিত করে তা সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নানা কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন তার উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও উদ্যোগী হতে বলেছেন।

“সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের ‘মাদার ট্রি’ চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গাছ লাগানোর পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা, রোপণ করা চারা বেঁচে আছে কি না, তা নিজস্ব লোক পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর উপায় বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

‘মাদার ট্রি’ বলতে মূলত বনের সবচেয়ে পুরনো, বড় ও শক্তিশালী গাছগুলোকে বোঝায়, যা মাটির নিচে ছত্রাক জালিকা বা মাইকোরিজাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আশেপাশের ছোট গাছ ও নতুন চারাগাছগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকে। এরা মাটির নিচের জালের মাধ্যমে ছোট চারাগাছগুলোতে পানি, কার্বন, নাইট্রোজেন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। কোনো গাছ রোগাক্রান্ত হলে বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পড়লে ‘মাদার ট্রি’ অন্য গাছগুলোকে সতর্ক সংকেত পাঠায়।

উপ প্রেস সচিব বলেন, “সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মানুষের প্রকৃতির মাঝে যাওয়ার জায়গা কম। এ ধরনের জায়গা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ছাদবাগান, স্কুলবাগানসহ বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে মানুষকে উৎসাহ দিতে হবে।”

রাজধানীর বায়ু দুষণে উদ্বেগ প্রকাশ করে সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “অনেক বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।”

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনি আপনার যেটা ডিউটি, তার থেকে কিন্তু একটু বেশি করার সক্ষমতা আপনার রয়েছে। দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার কাছে আসে না। যারা আজ দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের সেই সুযোগ রয়েছে। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেই থেমে গেলে হবে না। দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার চেষ্টা থাকতে হবে।

“আল্লাহ তাআলা আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য কিছুটা করার। আপনি নয়টা-পাঁচটা অফিস করতেই পারেন। এরপরে যদি আপনি কিছু না করেন, কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশটা যদি খারাপ হয়ে যায়, ভবিষৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম তো দেশেই থাকবে।”

দেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘‘ ঠিকভাবে কাজ করতে পারলে এর সুফল দেশের সব মানুষ পাবে। সবাই এগিয়ে এলে দেশের মানুষের জন্য সম্মিলিতভাবে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব বলেন, ‘‘ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, অন্য মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।”

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে সভায় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।