কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তায় রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের নতুন চালান পৌঁছেছে।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস।
এর আগে বুধবার ভোরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনটি লরিতে করে ইউরেনিয়াম রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। ঢাকা থেকে যমুনা সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।
জ্বালানি পরিবহনের সময় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
মঙ্গলবার রাতে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ বিমান ঢাকায় পৌঁছায়। পরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জ্বালানির চালানটি গ্রহণ করেন।
রুহুল কুদ্দুস বলেন, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার কথা রয়েছে। এ ছাড়া প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য আরও দুটি কার্গোতে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি আসবে। নতুন চালানটি এ সরবরাহের অংশ।
আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে রাশিয়া থেকে আরও আটটি ফ্লাইটে জ্বালানির বাকি চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো জ্বালানি সরবরাহ শেষ হবে।
দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপন শেষ হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন পিছিয়েছে।
রুহুল কুদ্দুস বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ভালভটির চূড়ান্ত পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়। পরে ১১ অক্টোবর চুল্লি চালুর প্রাথমিক ধাপ শুরু করেন বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রস্তুতি শেষ হলে নভেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।