বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

জানুয়ারিতে ইউপি ভোট করতে পারবেন, আশা ইসি আনোয়ারুলের

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 24 সেপ্টেম্বর 2026, 11:21 দুপুর • 19 বার পঠিত
জানুয়ারিতে ইউপি ভোট করতে পারবেন, আশা ইসি আনোয়ারুলের

স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার মধ্যে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আর সুযোগ নেই বলেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন, জানুয়ারিতে ভোট শুরু করার চিন্তা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন এ নির্বাচন কমিশনার

নির্বাচন কমিশন-ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় পরীক্ষার ফাঁকে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ-ইউপির ভোটের জন্য সম্ভাব্য সময় ছিল- প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে।

কিন্তু আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সরকারের তরফে পরীক্ষার কারণে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট না করার পরামর্শ আসে।

এমন পরিস্থিতিতে ইসির পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসছে।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি সরকারের কোনো ধরনের চাপের মধ্যে নেই দাবি করে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বাস্তবতার নিরিখে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে ভোটের সম্ভাব্য সময় পেছাচ্ছে।

তিনি বলেন, “নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা ও অন্যান্য বিষয়গুলো রয়েছে, এখানে আর ভোটের সুযোগ দেখছি না আমরা। সাধারণত বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বর-ডিসেম্বরে হয়। আশা করি, পাবলিক পরীক্ষাগুলো ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেলে জানুয়ারির দিকে ইনশাহআল্লাহ ভোট করতে পারব।”

আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পর ৬ জুনের মধ্যে ইউপি ভোট শেষ করার বিষয়ে সবাই সম্মত হয়েছে। কিন্তু জানুয়ারিতে ভোট শুরু করে সাড়ে চার হাজার ইউপির ভোট শেষ করা সম্ভব?

জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, রোজা, এসএসসি, পরীক্ষা, এইচএসসি পরীক্ষা সব দিক বিবেচনা করে ইসি সিদ্ধান্ত নেবে।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমার সম্ভাব্য সময়ের কথা বলেছি, কোনো কিছু চূড়ান্ত নয়। এটা একটা টাইমলাইন, আমরা চিন্তা ভাবনা করেছি; স্পেসিফিক ডেইট হবে তফসিল ঘোষণা হলে।”

জানুয়ারিতে ভোট শুরু করতে হলে অন্তত ৪০-৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে তুলে ধরে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে নভেম্বরে তফসিল হতে পারে।

সরকারের চাপে ইউপি ভোট নিয়ে ইসির পরিকল্পনা থেকে পিছিয়েছে কিনা জানতে চাইলে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “অনেকে অনেক কথা বলবে। মোটেই না। বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া যাতে বিঘ্ন না হয় সেটা বিবেচনা করে আমাদের পরিকল্পনা একটু পরিবর্তন হয়েছে।”

তিনি জানান, পাবলিক পরীক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যুক্ত থাকেন, তাই এই সময়টাতে নির্বাচন করা কঠিন। বাস্তবতার নিরিখে ইসির ঘোষিত সময়ে পরিবর্তন করা হয়েছে।

নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট না করার যে কারণ

ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের প্রাক-প্রস্তুতি নিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়।

বৃহস্পতিবার ইসির কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, নভেম্বরে ভোট শুরু নিয়ে ইসির মতামত তুলে ধরলে সেখানে সরকারের সংশ্লিষ্টরা তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেন।

ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আইনগত বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি বিদ্যমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রমজান এবং মার্চ মাসে এসএসএসসি/এইচসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কার্যক্রম ও বাস্তব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা।

সভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে মহালয়া, দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা, লক্ষ্মী পূজা, শ্যামা পূজা, বিজয় দিবস ও বড়দিনসহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে পুলিশকে ব্যস্ত থাকতে হবে।

এছাড়া, পুলিশের নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করার অনুরোধ জানান তিনি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব বলেছেন, ডিসেম্বর মাসের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে শিক্ষক ও কেন্দ্র ব্যবহার করা হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও মূল্যায়নে মারাত্মক ব্যত্যয় ঘটবে। সাম্প্রতিক বন্যা ও অন্যান্য কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষা চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী মার্চ মাসে এসএসসি পরীক্ষা এবং জুন মাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। জুনের ৬ তারিখের পর থেকে বন্যা ও বর্ষার মৌসুম শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ডিসেম্বর মাসে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে ২৫ কোটি থেকে ৩২ কোটি নতুন পাঠ্যবই বিতরণের বিশাল প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্ধারিত রয়েছে।

সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে ২০ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ কার্যক্রম নভেম্বর মাসে শুরু হচ্ছে। ৭০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশেষ উদ্যোগের অধীনে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অতিরিক্ত পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের উদ্বোধন ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করার অনুরোধ জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব।

জনপ্রশাসন সচিব বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ফলে ওই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন না করে জানুয়ারি মাস থেকে নির্বাচন শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের জন্য পরবর্তীতে পৃথক সভা আয়োজন করার পক্ষে মত দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব।

তিনি মত প্রকাশ করেন যে, সভায় প্রথমত ৩ ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনি এলাকার শূন্য আসনের নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, পুলিশের নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে পুলিশ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকবে। জানুয়ারি ২০২৭ এ তফসিল ঘোষণা করলে ‘রোজা কভার’ হয়।

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের পূর্বে স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

সবশেষে সিইসি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের তারিখের ন্যূনতম ৪৫ দিন পূর্বে তফসিল ঘোষণা করতে হয়। এ ছাড়া নির্বাচনের প্রতিটি ধাপের মধ্যে অন্তত ১৫ দিনের ব্যবধান রাখা প্রয়োজন। এসব আইনগত ও বাস্তব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী একটি সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে বলে আশা রাখেন তিনি।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বুধবার সচিবালয়ে বলেছেন, “নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী আমরা মনে করছি, নির্বাচন হতে এখনও দেরি আছে।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রমজান মাস, এসএসসি পরীক্ষা ও ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার কথা বিবেচনা করেই হয়ত ইসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই সাধারণত ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে নির্বাচন কমিশন ঠিক কবে ভোট শুরু ও শেষ করবে এবং মোট খরচ কত হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো সরকারকে জানায়নি।