হুথি হামলায় বিপর্যস্ত সৌদি, বিমানবন্দর-তেল স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় চাপে পড়েছে সৌদি আরব। বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় হামলায় প্রাণহানি, হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তাঝুঁকিতে বন্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের কার্যক্রম।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরের একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালায় হুথিরা।
এতে ভবনটির একাংশে আগুন ধরে যায়। তবে প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
পরে রিয়াদে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস করা হলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ে কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত হন বেশ কয়েকজন।
এদিকে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত চার দফা হামলায় ১৩ জন নিহত ও চার শতাধিক আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরটিতে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখে সৌদি কর্তৃপক্ষ। কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হামলার আশঙ্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি জনসমক্ষে আসা বন্ধ করেছেন এবং তাকে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
হুথিদের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন আল-সাবাহ তেল স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর জবাবে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও রাজকীয় অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দেয় হুথিরা।
অন্যদিকে, হুথিরা জ্বালানি ডিপো ও প্রশাসনিক ভবনকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি জোট। পাল্টা হুঁশিয়ারিতে সানার আল-সাবাহ থেকে হোদেইদাহ ও রাস ইসা বন্দর পর্যন্ত হুথিদের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
পাল্টাপাল্টি হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে। তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করাই এখন দেশটির বড় উদ্বেগ।
সূত্র: আল-জাজিরা