হরমুজ প্রণালির কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডুবল দুই জাহাজ
দু’টি প্রজেক্টাইলের হামলায় হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবে গেল দুই পণ্যবাহী জাহাজ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাহাজ দুইটি ডুবে গেছে।
এর মধ্যে একটি ছিল কনটেইনারবাহী জাহাজ এবং অন্যটি ছিল শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ। বুধবার সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ দুটির একটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ এবং অন্যটি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’।
সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ জিএফএস প্রাইড হরমুজ প্রণালি পেরোনোর সময় হামলার শিকার হয়। প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটির ক্ষতি হয় এবং আগুন ধরে যায়।
জাহাজটিতে ২১ জন নাবিক ছিলেন বলে জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের নৌচলাচল ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে। কেউ আহত হয়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটিকে স্থলভাগে নিয়ে যাওয়া যায়নি। সেটি ডুবে গেছে।
একই ভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলা হয় জাহাজ ‘কেপ দাও’-তে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাহাজটিতে হামলা হয়েছিল। পরে হরমুজে সেটিও ডুবে গেছে।
হামলায় কেপ দাও জাহাজে থাকা এক নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে বাকিদের সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে স্থলভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) পরিসংখ্যান বলছে, শেষ সাড়ে সাত মাসে এ নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজ ডুবল হরমুজ প্রণালিতে।
হরমুজ প্রণালির কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুরের এমপিএ। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
গত ১০ দিনে হরমুজ প্রণালির আশেপাশে হামলার তীব্রতা রেড়েছে। ইরান জানিয়েছে যে, গত মাসে তাদের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জবাবে তারা হামলা জোরদার করছে।
সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্কস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি অব্যাহত রয়েছে।
এ ঝুঁকি শুধু তেলবাহী ট্যাংকারেই সীমাবদ্ধ নয়; কনটেইনারবাহী জাহাজ ও শুকনো পণ্যবাহী জাহাজও গুরুতর ক্ষতির শিকার হচ্ছে।