চুয়েট: নতুন উপাচার্যকে ‘অসহযোগিতার’ ঘোষণা শিক্ষক-কর্মচারীদের
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে সব কাজে ‘সর্বাত্মক অসহযোগিতার’ ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন।
নতুন উপাচার্য প্রথমবারের মত সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চুয়েট কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এক যৌথ সভা করে তিন সংগঠন এ সিদ্ধান্ত নেয়।
পরে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, “বহিরাগতদের সহায়তায় নব নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসির ক্যম্পাসে উপস্থিতি তিন সমিতি ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছে। এর প্রেক্ষিতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে।
“পূর্ব ঘোষিত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত দায়িত্বসহ পূর্ণ কর্মবিরতির পাশাপাশি সর্বাত্মক অসহযোগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।”
এর আগে সবশেষ ৮ অক্টোবর চুয়েট শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভা থেকে আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে তার পদে পুনবর্হালের দাবি জানানো হয়। এরআগে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই দাবিতে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আহসান উল্লাহ বলেন, “আমাদের চুয়েট পরিবার তাকে (শেখ শরীফুল আলম) ভিসি হিসেবে গ্রহণ করছে না। আমরা সব মহলে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। আশা করি সরকার দ্রুততম সময়ে এই সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেবে; যাতে আগের ছন্দে বিশ্ববিদ্যালয় ফিরে যেতে পারে। শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয় তার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। সামনে দুর্গাপূজার ছুটি। এর পর যাতে আর কোনভাবেই শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।”
চুয়েটকে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটু আলাদা বর্ণনা করে তিনি বলেন, “এখানে কখনোই আনরেস্ট হয়নি। শিক্ষা কার্যক্রম কখনো ব্যাহত হয়নি। এই সরকারই আগের ভিসিকে নিয়োগ দিয়েছে; যিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে চুয়েটের উন্নয়ন, গবেষণা, শিক্ষা কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন। কোন কারণে কিসের জন্য কোন অনিয়মের কারণে হঠাৎ ছন্দপতন হল তা আমাদের বোধগম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সরকার নিয়োগকৃত আগের ভিসিকে পুনবর্হাল করা হোক।”
এর আগে দায়িত্বে যোগদানের ১৭ দিন পর সোমবার অফিস সময় শুরু হওয়ার আগেই সকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক-বর্তমান কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে যান নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শরীফুল আলম। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।
উপাচার্যকে দুপুর ১২টার মধ্যে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বেঁধে দেন তারা। কিন্তু উপাচার্য তাতে কান না দেওয়ায় বেলা সাড়ে ১২টায় ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উপাচার্য এখনো তার কার্যালয়ে আছেন। ভবনের ফটকের বাইরে এখনো অবস্থান করছেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে ক্যাম্পাসে অস্থিরতার মধ্যে দুপুরে মদুনাঘাট এলাকায় চুয়েট শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলা, কুয়াইশ এলাকায় ট্রাক দিয়ে শিক্ষার্থীদের বাসের গতি রোধ এবং সবশেষ বিকেল সাড়ে ৪টায় বহদ্দারহাট এলাকায় শিক্ষার্থীদের বাসে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে।
এ বিষয়ে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আহসান উল্লাহ বলেন, “আজ চট্টগ্রাম শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসার মুহূর্তে মদুনাঘাটে কিছু সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হয় শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা অত্যন্ত শঙ্কিত, ব্যথিত ও উদ্বিগ্ন। একজন ভিসি নিয়োগের প্রেক্ষিতে এ ধরণের কর্মকাণ্ড হতে পারে, শিক্ষক হিসেবে আমরা তা কল্পনাও করতে পারি না।
“কেবলমাত্র একটি পদের জন্য শিক্ষার্থীদের আক্রান্ত করব এটা হতে পারে না। এর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। এরকম কর্মকাণ্ড আর যেন না হয়।
“ছাত্ররা অলরেডি আক্রান্ত, আমরা খুবই শঙ্কিত এই বিষয়টা নিয়ে। এতদিন পর্যন্ত আমাদের বাসগুলো ঠিকভাবে চলেছে, আজ কেন আক্রান্ত হল? এরমধ্যে যোগসূত্র থাকতে পারে। কারা করেছে এ মুহূর্তে আমাদের কাছে তথ্য নেই। যারাই করেছে তারা দুসষ্কৃতকারী হবে এটাই বিশ্বাস করি।”
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপনারই দেখেছেন সকালে যখন উনি (নতুন উপাচার্য) বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন, তখন তার সঙ্গে যারা ছিল তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কে? তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্তৃপক্ষ না।”
সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মিছিল করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।