ব্যবসায়ী থেকে পবিত্র দুই মসজিদের মুয়াজ্জিন
তাঁর নাম সাদ। প্রসিদ্ধ সাদ আল-কারাজ। পিতা আয়িজ। অপর এক বর্ণনামতে আব্দুর রহমান। তিনি প্রসিদ্ধ সাহাবি আম্মার ইবনে ইয়াসির রা. এর আজাদকৃত গোলাম। কেউ কেউ আনসারের আজাদকৃত বলেছেন। তবে সেটা নির্ভরযোগ্য নয়। কোনো কোনো হাদিসের সনদে তাঁকে আম্মারের পুত্র বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি রাসুল (সা.)-এর মনোনীত মসজিদে কুবার মুয়াজ্জিন। (তাহজিবুল কামাল : ১০/২৭৫)
আল-কারাজ নামে খ্যাতির কারণ
‘কারাজ’ এক প্রকার গাছবিশেষ, যা দেখতে অনেকটা বাদাম গাছের মতো। তার পাতা দ্বারা চামড়া দিবাগাত (শোধন) করা হয়।
সাদ ইবনে আয়িজ (রা.) ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তিনি নানা পণ্যের ব্যবসা করে বারবার ক্ষতিগ্রস্থ হন। একবার কারাজ গাছ বা তার পাতার ব্যবসা করে তাতে খুব লাভবান হন। বিষয়টি রাসুল (সা.)-কে অবহিত করলে তিনি ক্বারাযের ব্যবসাই করতে বলেন। তখন থেকে তিনি ক্বারাযের ব্যবসাই করেন এবং তা ধরে রাখেন। এভাবে তিনি একসময় সাদ আল-কারাজ নামে প্রসিদ্ধ হয়ে যান। ইমাম নববী (রহ.) বলেন, কোনো কিতাবে আল-কারাজি উল্লেখ পাওয়া যায়। তা নিঃসন্দেহে ভুল। (তাহজিবুল কামাল : ১০/২৭৫)
আজানের দায়িত্ব
রাসুল (সা.) সাদ আল-কারাজ (রা.)-কে মসজিদে কুবার মুয়াজ্জিন নিয়োগ করেন। রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত তিন সে দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন।
রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালের পর মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন বিলাল (রা.) খলিফা আবু বকর (রা.) থেকে অনুমতি নিয়ে আজানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। তারপর সিরিয়ায় চলে যান। তখন খলিফা আবু বকর (রা.) সাদ আল-কারাজ (রা.)-কে মসজিদে কুবা থেকে বদলি করে মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন নিয়োগ করেন। অপর এক বর্ণনামতে বিলাল (রা.) আজানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা.)-এর খেলাফতামলে। তখন উমর (রা.) মসজিদে কুবা থেকে সাদ আল-কারাজ (রা.)-কে মসজিদে নববীতে নিয়োগ দেন। যে-কালেই নিয়োগ হোক, তিনি নিয়োগের পর থেকেই মৃত্যু পর্যন্ত মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর প্রজন্মরা যুগ যুগ ধরে এই দায়িত্বে অধিষ্ঠিত থাকেন। (তাহজিবুল কামাল : ১০/২৭৬)
সাদ আল-কারাজ (রা.) থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁর ছেলে ‘আম্মার ও উমার ও নাতি হাফছ ইবনে উমার। (আল-ইসতিআব ২/৫৯৩)
আবু আহমাদ আল-আসকারী (রহ.) বলেন, সাদ আল-কারাজ (রা.) হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের শাসনামলে ইন্তেকাল করেন। (তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত : ১/২১২)