বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ কতটা কষ্টের, সেটা বুঝতে পারছি: অপ্রতিমের বাবা
আর কোনো বাবাকে যেন তার মতো সন্তান হারাতে না হয় এমন আকুতি জানিয়েছেন কুমিল্লার স্কুল ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
তিনি বলেছেন, “বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ কতটা কষ্টের, সেটা আজ বুঝতে পারছি। আর কাউকে যেন আমার মতো সন্তান হারাতে না হয়।”
রোববার সকালে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে একমাত্র ছেলের জানাজার আগে তিনি এ আকুতি জানান।
সন্তানহারা এই বাবা বলেন, “আমার ছেলের বয়স যখন দুই বছর, তখন সে এই এলাকায় এসেছে। আমার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অপ্রতিম আপনাদের কাছেই বড় হয়েছে।
“আপনাদের আদর-স্নেহ পেয়েছে, আপনাদের বাসায় খেয়েছে। তাই আপনাদের কাছেই অপ্রতিমকে সমাহিত করছি।”
এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে প্রথম জানাজায় তিনি বলেন, আমার ছেলে আপনাদের কুমিল্লার আবহাওয়ায়, কুমিল্লার আকাশের নিচে, আপনাদের ভালোবাসায়, আপনাদের স্নেহ... ও বড় হয়েছিল।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “ওর বয়স ১৩ বছর। আমি ওর বাবা হিসেবে আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। ও যদি কোনো আচরণে আপনারা ত্রুটি পান, আপনারা ক্ষমা করে দিবেন। এবং ওর জন্য দোয়া করবেন, ও যেন বেহেশতবাসী হয়।”
তিনি বলেন, “আমার একটাই সন্তান। ওর মাতৃভূমি বলেন, এটাই। ও ছোট থেকে এখানেই বড়, আপনাদের ভালোবাসায় বড় (হয়েছে)।… “
পরে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি উপশহরের গন্ধমতি কবরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়।
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে এবং স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শুক্রবার বিকালে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় সে। এরপর আর বাসায় ফেরেনি।
পরে শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।