বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 22 সেপ্টেম্বর 2026, 12:49 দুপুর • 18 বার পঠিত
আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয় মন্তব্য করে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশেও সরকার নির্ধারিতভাবে দাম সমন্বয় করায় মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মানুষের কাছে আলাদাভাবে দৃশ্যমান হয়।

তিনি বলেন, অবশ্য জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যাতে মূল্যস্ফীতি না বাড়ে, পণ্য সরবরাহে কোনো বিঘ্ন তৈরি না হয়, সেজন্য সরকার সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

তবে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে পণ্যের দামে তেমন প্রভাব পড়বে না উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি করা হবে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের ফ্যাক্টরি মাঠে চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বিরোধী দলের সমালোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রয়েছে।

মানুষের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও বিশ্লেষণ যেন গঠনমূলক এবং জনস্বার্থে কার্যকর হয়, সে প্রত্যাশা করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এফএসআরইউতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছুদিন গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হয়েছিল।

সেই সমস্যা এখন আর নেই। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় আমদানি করা বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেশে প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলোও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চিনি ও সয়াবিনসহ আমদানি করা পণ্য দেশে প্রক্রিয়াজাত করা কারখানাগুলো এখন পূর্ণ উদ্যমে কাজ করছে। ফলে বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহে বড় কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মূল্য ইনশাআল্লাহ স্থিতিশীল থাকবে এবং মূল্যের ওপর সেরকম লক্ষণীয় কোনো অভিঘাত ইনশাআল্লাহ আসবে না।’

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দীর্ঘসময় ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সমন্বয় না হওয়ায় পর্যায়ক্রমে বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একবারে বড় ধরনের বৃদ্ধি না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা মূলত বাজারের চাহিদা ও শ্রমবাজারের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মালিকপক্ষ নির্ধারণ করে থাকে। কোনো প্রতিষ্ঠান বাজারের তুলনায় কম মজুরি দিলে সেখানে প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন কিছু প্রতিষ্ঠানও ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতের উদ্যোগের আওতায় আসবে বলে জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে বাগানের ইনকাম বাড়ানোর জন্য আমরা কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছি। চা গাছের স্বাস্থ্য নষ্ট না করে আরও কোনো গাছ লাগানো যায় কি না সে ব্যাপারে আলাপ হচ্ছে। কাঠের গাছ, মসলার গাছ এসব গাছ লাগানোর আলাপ-আলোচনা চলছে। এছাড়া যেসব বাগানে সম্ভব সেগুলোতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে বাগানের আয় বাড়াতে পারি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বাগানের আয় বাড়াতে পারলে শ্রমিকদের মজুরিও ভালোভাবে বাড়াতে পারব।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করছি। যেসব বাগানে স্কুল নেই, সেগুলোতে স্কুল হবে। বাগানের রাস্তাঘাটের সংস্কার করা হবে। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিতভাবে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছি। এর সুফল আপনারা পাবেন। স্বাস্থ্য-শিক্ষা, মজুরিসহ সবক্ষেত্রেই এর সুফল পাবেন।

এসময় বিভিন্ন চা বাগানের ১৯৮০ শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ করা হয়।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং চা বাগানের শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।