বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
কুরআন

আইয়ামে বীজ: প্রতি মাসের তিন দিনের রোজা, কুরআন, সুন্নাহ, সিরাহ ও সালাফের জীবনের আলোকে

ড. মো: সাইফুল ইসলাম • 23 সেপ্টেম্বর 2026, 11:30 দুপুর • 26 বার পঠিত
আইয়ামে বীজ: প্রতি মাসের তিন দিনের রোজা, কুরআন, সুন্নাহ, সিরাহ ও সালাফের জীবনের আলোকে

প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে তিন দিন রোজা রাখাকে বলা হয় আইয়ামে বীজ। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে এই রোজা রাখতেন, সাহাবিদের রাখতে বলতেন, এবং কয়েকজন সাহাবিকে বিশেষভাবে অসিয়ত করে গিয়েছিলেন।

অথচ আমাদের সমাজে এই আমলটি তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত। রমজান, আশুরা কিংবা আরাফার রোজা নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, প্রতি মাসে ফিরে আসা এই তিন দিন নিয়ে ততটা হয় না - যদিও পুরস্কারের দিক থেকে এটি বিস্ময়কর।

এই লেখায় আইয়ামে বীজের পরিচয়, দলিল, ফজিলত, ব্যবহারিক বিধান এবং কয়েকটি প্রচলিত ভুল ধারণা আলোচনা করা হয়েছে।

এক. নাম ও পরিচয়

"বীজ" (البيض) শব্দের অর্থ সাদা বা শুভ্র। আরবিতে আইয়ামুল বীজ অর্থ "শুভ্র দিনগুলি"।

এই নামকরণের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাটি প্রাকৃতিক: চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রাতগুলিতে চাঁদ পূর্ণ থাকে, ফলে রাতগুলি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জ্যোৎস্নায় শুভ্র থাকে। ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহসহ মুহাদ্দিসগণ তাঁদের ব্যাখ্যাগ্রন্থে এই কারণটিই উল্লেখ করেছেন।

একটি সতর্কতা। এই নামকরণ নিয়ে আরেকটি বর্ণনা সমাজে প্রচলিত - আদম আলাইহিস সালাম জমিনে নেমে আসার পর তাঁর শরীর কালো হয়ে গিয়েছিল, এবং তিন দিন রোজা রাখার পর তা ধীরে ধীরে সাদা হয়ে যায়। এই বর্ণনাটির সনদ নির্ভরযোগ্য নয়, এবং একে হাদিস হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়। আমল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য দুর্বল বর্ণনার প্রয়োজন নেই - নিচের সহিহ হাদিসগুলোই যথেষ্ট।

দুই. কুরআনের আলোকে

কুরআনে "আইয়ামে বীজ" নামটি আসেনি। কিন্তু এই আমলের ভিত্তি কুরআনের তিনটি নীতির উপর দাঁড়িয়ে আছে।

রোজার সাধারণ মর্যাদা

"হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর - যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।" - সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৩

রোজার উদ্দেশ্য এখানে স্পষ্ট: তাকওয়া। আর তাকওয়া একমাসের অনুশীলনে সম্পূর্ণ হয় না - সারা বছর ধরে চর্চার প্রয়োজন হয়। প্রতি মাসে ফিরে আসা তিন দিনের রোজা ঠিক এই ধারাবাহিকতাটিই নিশ্চিত করে।

এবং একই সূরায় নফল রোজা সম্পর্কে বলা হয়েছে:

"আর তোমরা রোজা রাখলে তা তোমাদের জন্য উত্তম - যদি তোমরা জানতে।" - সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৪

রোজাদারদের জন্য ক্ষমা ও পুরস্কার

"...রোজাদার পুরুষ ও রোজাদার নারী... আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।" - সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৫

আয়াতে রোজাদারদের আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে সেই দশটি শ্রেণির মধ্যে, যাদের জন্য ক্ষমার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

দশ গুণ প্রতিদানের নীতি

"যে একটি সৎকাজ নিয়ে আসবে, তার জন্য রয়েছে তার দশ গুণ।" - সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১৬০

এই আয়াতটিই আইয়ামে বীজের ফজিলত বোঝার চাবিকাঠি। তিন দিনের রোজা × দশ গুণ = ত্রিশ দিন, অর্থাৎ একটি পূর্ণ মাস। বছরে বারো মাস - অর্থাৎ সারা বছর রোজা রাখার সমান।

পরবর্তী অনুচ্ছেদে দেখা যাবে, রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেই এই হিসাবটি বলে দিয়েছেন।

তিন. সুন্নাহর আলোকে

১. নির্দিষ্ট তারিখের নির্দেশ

আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "তুমি যখন মাসে তিন দিন রোজা রাখবে, তখন তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখে রাখো।" - সুনানে তিরমিযী, হাদিস: ৭৬১। ইমাম তিরমিযী একে হাসান বলেছেন। সুনানে নাসাঈতেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে।

এই হাদিসটিই আইয়ামে বীজের মূল দলিল - কারণ এখানে তারিখ তিনটি নাম ধরে উল্লেখ করা হয়েছে।

২. নিয়মিত নির্দেশ দেওয়া

কাতাদা ইবনে মিলহান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের আইয়ামে বীজের - তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখের - রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন।" - সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৪৪৯। বর্ণনাটি হাসান।

লক্ষণীয়, এখানে ক্রিয়াপদটি চলমান কালে - "নির্দেশ দিতেন"। অর্থাৎ এটি একবারের কথা নয়, বরং তাঁর নিয়মিত শিক্ষার অংশ ছিল।

৩. সারা বছর রোজার সমান

আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "প্রতি মাসে তিন দিনের রোজা সারা বছরের রোজার সমান।" - সহিহ বুখারী, হাদিস: ১৯৭৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৫৯।

এটি সহিহ বুখারী ও মুসলিম - উভয় গ্রন্থে বর্ণিত, অর্থাৎ সর্বোচ্চ মানের হাদিস। আর এই হিসাবটি ঠিক সেই দশ গুণ প্রতিদানের নীতি থেকেই আসে, যা সূরা আল-আনআমের ১৬০ নম্বর আয়াতে রয়েছে।

৪. দুজন সাহাবিকে অসিয়ত

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "আমার প্রিয় বন্ধু ﷺ আমাকে তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন - প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, দুই রাকাত চাশতের নামাজ, এবং ঘুমানোর আগে বিতর পড়ে নেওয়া।" - সহিহ বুখারী, হাদিস: ১১৭৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭২১।

অনুরূপ অসিয়ত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর ক্ষেত্রেও বর্ণিত (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭২২)।

এই হাদিসের একটি দিক বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন কাউকে অল্প কয়েকটি আমলের অসিয়ত করেন, তখন বুঝতে হয় সেগুলো এমন আমল - যা অল্প পরিশ্রমে বেশি ফল দেয় এবং সারাজীবন ধরে রাখা সম্ভব। আইয়ামে বীজ সেই সংক্ষিপ্ত তালিকার প্রথম নাম।

৫. তাঁর নিজের আমল

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন - রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতেন। - সুনানে তিরমিযী, হাদিস: ৭৪২। বর্ণনাটি হাসান।

চার. সিরাহর আলোকে: একটি জরুরি সূক্ষ্মতা

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন, যা অনেক আলোচনায় বাদ পড়ে যায়।

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল - রাসূলুল্লাহ ﷺ কি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। জিজ্ঞাসা করা হলো - মাসের কোন দিনগুলোতে রাখতেন? তিনি বললেন: "মাসের কোন দিনগুলোতে রোজা রাখছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বাছবিচার করতেন না।" - সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬০।

অর্থাৎ তাঁর আমলে নমনীয়তা ছিল - কখনো ১৩-১৪-১৫, কখনো মাসের অন্য দিনে।

ফুকাহাদের সিদ্ধান্ত এই দুই ধরনের বর্ণনা মিলিয়েই:

মূল সুন্নাহ হলো প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা - মাসের যেকোনো দিনে।

সর্বোত্তম হলো সেই তিন দিন যদি ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে হয়।

এই পার্থক্যটি জানা জরুরি, কারণ এতে আমলটি অনেকের জন্য সহজ হয়ে যায়। কোনো মাসে ১৩-১৫ তারিখে সম্ভব না হলে আমল বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই - মাসের অন্য তিন দিনে রাখলেও মূল সুন্নাহ আদায় হয়ে যাবে।

দাউদ আলাইহিস সালামের রোজা প্রসঙ্গে

সিরাহর আরেকটি ঘটনা এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা প্রতিদিন রোজা রাখতে চেয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে ধাপে ধাপে কমিয়ে আনেন এবং শেষে বলেন - সর্বোত্তম রোজা হলো দাউদ আলাইহিস সালামের রোজা: একদিন রোজা, একদিন বিরতি (সহিহ বুখারী, হাদিস: ১৯৭৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৫৯)।

এবং এই ঘটনার শেষাংশটিই সবচেয়ে শিক্ষণীয়। বার্ধক্যে পৌঁছে আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলতেন - "হায়! আমি যদি নবীজি ﷺ-এর দেওয়া ছাড়টি গ্রহণ করতাম!" (সহিহ বুখারী, হাদিস: ১৯৭৫)।

কারণ তিনি নিজের উপর যে কঠিন আমল চাপিয়ে নিয়েছিলেন, বৃদ্ধ বয়সে তা চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছিল - অথচ ছেড়ে দিতেও চাইছিলেন না।

এখানেই আইয়ামে বীজের প্রজ্ঞা। মাসে তিন দিন - এমন একটি পরিমাণ, যা তরুণ বয়সে শুরু করলে আশি বছর বয়সেও চালিয়ে যাওয়া যায়। আর রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন - আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল সেটাই, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয় (সহিহ বুখারী, হাদিস: ৬৪৬৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৮৩)।

পাঁচ. সালাফের জীবনে

সাহাবিদের নিষ্ঠা

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনাটি আবার লক্ষ করুন। তিনি কেবল অসিয়তের কথা বলেননি - হাদিসের কোনো কোনো বর্ণনায় তিনি যোগ করেছেন যে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই তিনটি আমল ছাড়েননি।

একজন মানুষ, যিনি হাদিস বর্ণনায় সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন, যাঁর জীবন কেটেছে ইলমের খেদমতে - তাঁর ব্যক্তিগত আমলের তালিকায় সবার আগে ছিল মাসের এই তিন দিন।

উম্মুল মুমিনিন হাফসা ও অন্যান্য

সাহাবিদের একটি বড় অংশের নিয়মিত আমল ছিল এই তিন দিনের রোজা। বিভিন্ন বর্ণনায় উম্মুল মুমিনিন হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহাসহ একাধিক সাহাবির এই আমলের কথা এসেছে।

পরবর্তী প্রজন্মের আলিমগণ

তাবিয়ি ও পরবর্তী ফুকাহাদের রচনায় আইয়ামে বীজ একটি প্রতিষ্ঠিত মুস্তাহাব আমল হিসেবে আলোচিত। ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ শরহু সহিহ মুসলিম-এ এবং ইবনে কুদামা রাহিমাহুল্লাহ আল-মুগনী-তে এই তিন দিনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

কেউ কেউ এই তিন দিনের সঙ্গে সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজাও মিলিয়ে নিতেন - কারণ সোমবার-বৃহস্পতিবারেও রোজার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে (সুনানে তিরমিযী, হাদিস: ৭৪৭)।

ছয়. ব্যবহারিক বিধান - যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

১. জিলহজ মাসে তারিখ বদলে যায়

এটি সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত বিধান।

জিলহজ মাসের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখকে বলা হয় আইয়ামে তাশরিক, এবং এই দিনগুলোতে রোজা রাখা নিষিদ্ধ।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আইয়ামে তাশরিক হলো পানাহার ও আল্লাহর জিকিরের দিন।" - সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৪১।

সুতরাং জিলহজ মাসে ১৩ তারিখে রোজা রাখা যাবে না। এই মাসে আইয়ামে বীজ আদায় করতে হলে ১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখে রাখতে হবে - ফুকাহাদের সাধারণ অভিমত এটিই।

২. রমজান মাসে আলাদা করে নয়

রমজানে পুরো মাসই রোজা, তাই আলাদাভাবে আইয়ামে বীজের প্রশ্ন আসে না।

৩. নিয়ত রাতে না করলেও চলে

নফল রোজার ক্ষেত্রে দিনের বেলায়ও নিয়ত করা যায়, যদি এর আগে কিছু খাওয়া-পান করা না হয়ে থাকে।

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন - রাসূলুল্লাহ ﷺ একদিন এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ঘরে খাওয়ার কিছু আছে কি? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন: "তাহলে আমি রোজাদার।" - সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৫৪।

অর্থাৎ সেহরি খেতে না পারলেও, সকালে ঘুম থেকে উঠে নিয়ত করে নেওয়া যায় - যদি কিছু খাওয়া না হয়ে থাকে।

৪. শুক্রবার পড়ে গেলে

শুধু শুক্রবার আলাদা করে রোজা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে, তবে তার আগে বা পরের দিনসহ রাখলে সমস্যা নেই (সহিহ বুখারী, হাদিস: ১৯৮৫)।

যেহেতু আইয়ামে বীজ পরপর তিন দিন, তাই এই ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা থাকে না।

৫. কোনো মাসে বাদ পড়লে

নফল রোজা কাজা করা আবশ্যক নয়। তবে কেউ চাইলে ওই মাসেরই অন্য তিন দিনে রাখতে পারেন - চতুর্থ অনুচ্ছেদে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণনা অনুযায়ী।

৬. অসুস্থতা, ভ্রমণ ও ওজর

নফল আমলে কষ্ট চাপিয়ে নেওয়ার নির্দেশ নেই। অসুস্থ ব্যক্তি, গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী মা, অথবা ভ্রমণে থাকা ব্যক্তি সুবিধাজনক সময়ে আদায় করবেন। চিকিৎসাধীন কেউ থাকলে নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সাত. যে আমলটি পুরো জীবন চালানো যায়

আইয়ামে বীজের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এর টেকসই পরিমাণ।

বছরে ৩৬টি রোজা - সংখ্যাটি শুনতে অল্প। কিন্তু হাদিসের হিসাব অনুযায়ী এর প্রতিদান সারা বছর রোজা রাখার সমান। আর এটি এমন একটি পরিমাণ, যা পেশাজীবী, শিক্ষার্থী, গৃহিণী - সবাই বছরের পর বছর ধরে রাখতে পারেন।

কয়েকটি ব্যবহারিক পরামর্শ:

ক্যালেন্ডারে আগেই চিহ্নিত করে রাখুন। চান্দ্রমাসের ১৩ তারিখ কবে পড়ছে, তা আগে থেকে না জানলে বেশিরভাগ মাসেই তারিখ পার হয়ে যায়।

পরিবারকে জানিয়ে রাখুন। ঘরের রান্নার সময়সূচি জানা থাকলে সেহরি ও ইফতার সহজ হয়।

অন্তত একটি দিন দিয়ে শুরু করুন। তিন দিন একসঙ্গে কঠিন মনে হলে প্রথম কয়েক মাস একদিন করে রাখুন। ধারাবাহিকতাই মূল কথা।

অন্যকে মনে করিয়ে দিন। সৎকাজের পথ দেখানো নিজে করার সমান সওয়াব - রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "যে ব্যক্তি কল্যাণের পথ দেখায়, সে ওই কাজ সম্পাদনকারীর সমান প্রতিদান পায়" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৯৩)।

আট. সারসংক্ষেপ

বিষয় সংক্ষেপে

কী প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা

বিধান সুন্নাহ ও মুস্তাহাব

মূল দলিল তিরমিযী ৭৬১ (হাসান), আবু দাউদ ২৪৪৯ (হাসান)

ফজিলত সারা বছর রোজার সমান - বুখারী ১৯৭৯, মুসলিম ১১৫৯

নমনীয়তা মাসের যেকোনো তিন দিনেও আদায় হয় - মুসলিম ১১৬০

ব্যতিক্রম জিলহজে ১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখে; রমজানে প্রযোজ্য নয়

নয়. আরও জানার জন্য

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নিচের সূত্রগুলো দেখা যেতে পারে:

লেখা

আইয়্যামে বীজের রোজা (মাসিক আল-কাউসার)

রোযার গুরুত্ব ও ফযীলত (মাসিক আল-কাউসার)

ভিডিও

আইয়ামে বীজের রোজা - আলোচনা ১

আইয়ামে বীজের রোজা - আলোচনা ২

সূত্রতালিকা

কুরআন: সূরা আল-বাকারা ১৮৩, ১৮৪ · সূরা আল-আনআম ১৬০ · সূরা আল-আহযাব ৩৫

হাদিস: সহিহ বুখারী - ১১৭৮, ১৯৭৫, ১৯৭৬, ১৯৭৯, ১৯৮৫, ৬৪৬৪ সহিহ মুসলিম - ৭২১, ৭২২, ৭৮৩, ১১৪১, ১১৫৪, ১১৫৯, ১১৬০, ১৮৯৩ সুনানে আবু দাউদ - ২৪৪৯ (হাসান) সুনানে তিরমিযী - ৭৪২ (হাসান), ৭৪৭, ৭৬১ (হাসান)

ব্যাখ্যাগ্রন্থ: ইবনে হাজার আসকালানী, ফাতহুল বারী · ইমাম নববী, শরহু সহিহ মুসলিম · ইবনে কুদামা, আল-মুগনী

বিঃদ্রঃ - সেহরি ও ইফতারের সময় এলাকাভেদে ভিন্ন হয়। নিজ এলাকার নির্ভরযোগ্য সময়সূচি মিলিয়ে নেবেন। আর চাঁদ দেখার ভিত্তিতে হিজরি তারিখ এক দিন আগে-পরে হতে পারে, তাই প্রতি মাসের তারিখ নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।

#অনলাইন নিউজ পোর্টাল ২৪ #ইবাদত #কুরআন #হাদিস #ইসলাম