অন্তর্বর্তী সরকার যদি ২-৪ বছর টিকে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত জনসমর্থন নিয়ে এর আগে কোনো সরকার গঠিত হয়নি। তার মতে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলের পর সবচেয়ে সফল সরকার হবে প্রফেসর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
বরিশাল প্রেস ক্লাবে ঈদ উপলক্ষে এবি পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিক ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি গণঅভ্যুত্থানের ফসল। যদি এটি সবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে ২-৪ বছর টিকে থাকে, তাহলে দেশ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া বা দক্ষিণ কোরিয়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো গত ১৬-১৭ বছর ধরে ভোট, নির্বাচন ও গণতন্ত্রের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ভিন্ন, তারা দেয়াল লিখনে ভোটের বদলে সংস্কারের দাবি তুলেছে। তবে, উভয়ের আকাঙ্ক্ষাই ন্যায়সঙ্গত এবং মর্যাদাসম্পন্ন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বিচার, নির্বাচন ও সংস্কারকে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেন না। বরং তিনি বলেন, এসবের সমন্বয়েই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান গঠিত হয়েছে। তবে, এসব অর্জন চাপিয়ে দিলে জাতি মেনে নেবে না। ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এগোতে হবে।
তিনি জানান, এবারের গণঅভ্যুত্থানে দুটি প্রধান জনগোষ্ঠীর অবদান রয়েছে; একটি রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের আন্দোলন, যেখানে হাজারো মানুষ শহীদ ও গুম-খুনের শিকার হয়েছেন; অপরটি তরুণ সমাজের নতুন জাগরণ, যা গত জুন-আগস্ট সময়ে নতুন এক তারকার মতো আবির্ভূত হয়েছে।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, বরিশাল অঞ্চলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে এখানকার মানুষ এখনো মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সাম্যের অভাবে ভুগছে। তার মতে, ১৯৭১ সালের ব্যর্থতাই ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে জন্ম দিয়েছে।
সভায় বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনসহ গণমাধ্যমকর্মী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।