এই ৭টি ভুল এড়িয়ে চললেই শরীর থাকবে সুস্থ ও নিরাপদ

এই ৭টি অভ্যাস বদলান, সুস্থ ও নিরাপদ জীবন গড়ুন
আমরা অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলি যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। প্রতিদিনের জীবনে ছোট ছোট কিছু অস্বাস্থ্যকর কাজ আমাদের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একটু সচেতন হলে আমরা নিজেদের সুস্থ রাখতে পারি। আসুন জেনে নেই এমন ৭টি অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং কীভাবে সেগুলো এড়িয়ে চলা যায়।
১. হাত না ধুয়ে খাবার খাওয়া
অনেকেই তাড়াহুড়োর মধ্যে হাত না ধুয়েই খাবার খেয়ে ফেলেন। তবে আমাদের হাতেই থাকে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস, যা সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া জরুরি।
২. মোবাইল ফোন ব্যবহার করার পর হাত পরিষ্কার না করা
মোবাইল ফোন এমন একটি বস্তু, যা সারাদিন আমরা স্পর্শ করি, কিন্তু এটি পরিষ্কার করি না। এতে ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে এবং পরে সেগুলো হাতের মাধ্যমে আমাদের মুখে প্রবেশ করতে পারে। তাই নিয়মিত ফোন পরিষ্কার করা এবং ব্যবহারের পর হাত ধোয়া উচিত।
৩. নখ কামড়ানো বা নোংরা রাখা
অনেকের নখ কামড়ানোর অভ্যাস আছে, যা খুবই ক্ষতিকর। নখের ফাঁকে প্রচুর জীবাণু লুকিয়ে থাকে, যা মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে রোগ সৃষ্টি করতে পারে। নিয়মিত নখ কেটে পরিষ্কার রাখা এবং এই অভ্যাস পরিবর্তন করা উচিত।
৪. রান্নার আগে কাঁচা সবজি ও মাংস না ধোয়া
অনেকেই রান্নার আগে সবজি ও মাংস ভালোভাবে ধুয়ে নেন না, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে। সবজিতে থাকতে পারে পেস্টিসাইড ও মাটির জীবাণু, আর কাঁচা মাংসে থাকতে পারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। তাই রান্নার আগে এগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
৫. অপরিষ্কার বিছানায় ঘুমানো
অনেকেই নিয়মিত বিছানার চাদর ও বালিশের কাভার পরিবর্তন করেন না, যা অ্যালার্জি ও ত্বকের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ঘাম, ধুলাবালি ও মৃত কোষ জমে বিছানা জীবাণুর আখড়া হয়ে ওঠে। তাই প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার বিছানার চাদর ও বালিশের কাভার ধোয়া উচিত।
৬. হাঁচি-কাশির সময় মুখ না ঢাকা
হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় মুখ না ঢাকলে বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্যরাও সংক্রমিত হতে পারে। তাই হাঁচি-কাশির সময় হাত নয়, কনুই দিয়ে মুখ ঢাকতে হবে, অথবা টিস্যু ব্যবহার করে পরে তা ফেলে দিতে হবে।
৭. পানি কম পান করা
অনেকেই ব্যস্ততার কারণে পানি পান করতে ভুলে যান, যা শরীরের বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি না খেলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়, ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত।
একটু সচেতন হলেই আমরা এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে আমরা শুধু নিজেদের নয়, বরং আমাদের আশপাশের সবাইকেও সুস্থ রাখতে পারব।