শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, চৈত্র ২১ ১৪৩১, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের শুল্ক ‘ভুল’ ও ‘অযৌক্তিক’, বলছেন বিশ্ব নেতারা

 আপডেট: ১১:৪৩, ৩ এপ্রিল ২০২৫

ট্রাম্পের শুল্ক ‘ভুল’ ও ‘অযৌক্তিক’, বলছেন বিশ্ব নেতারা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক আরোপের একটি নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করার পর সেটি ধরে রেখেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের শতাধিক দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার সমালোচনা করেছেন ইতালির জর্জিয়া মেলোনি, অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্থনি আলবানিজসহ বিশ্ব নেতারা।

মেলোনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ একটা ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত; আলবানিজ বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক ‘অযৌক্তিক’।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মধ্যে ৫ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ভিত্তিমূলক শুল্ক বসবে বলেও জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও চীনসহ প্রায় ৬০টি দেশের ওপর ৯ এপ্রিল থেকে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হবে; জানিয়েছে বিবিসি।

যেসব দেশকে কেবল ভিত্তি শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে তার মধ্যে রয়েছে-যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড, তুরস্ক, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, এল সালভাদর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব।

ট্রাম্প বলেছেন, এসব পদক্ষেপ ‘আমেরিকাকে আবার ধনী করে তুলবে’। নিজের সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রে তিনি ‘খুব দয়ালু’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

কিন্তু ট্রাম্পের মিত্র মেলোনি বলেছেন, “ইইউয়ের শুল্ক কোনো পক্ষের জন্য উপযুক্ত হবে না।”

এখানে পক্ষ বলতে তিনি ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝিয়েছেন। ‘বাণিজ্য যুদ্ধ আটকাতে’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তির জন্য কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন মেলোনি।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, স্পেন তার কোম্পানি ও শ্রমিকদের রক্ষা করবে এবং ‘উন্মুক্ত বিশ্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা অব্যাহত রাখবে’।

আয়ারল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী সিমন হ্যারিস বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপস করার জন্য প্রস্তুত; এটিকে ‘এগিয়ে যাওয়ার সেরা উপায়’ বলে দাবি করেছেন তিনি। অপরদিকে দেশটির নেতা মাইকেল মার্টিন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘গভীরভাবে দুঃখজনক’ উল্লেখ করে এতে ‘কেউ লাভবান’ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন।

ইইউয়ের বাইরে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেছেন, “অযৌক্তিক শুল্কের জন্য আমেরিকানদেরই সবচেয়ে বড় মূল্য চুকাতে হবে।”

তবে অস্ট্রেলিয়ার সরকার সম্পূরক কোনো শুল্ক আরোপ করবে না বলে পরিষ্কার করেছেন তিনি।

চীনকে ‘সবচেয়ে অনিষ্টকারী’ দেশগুলোর মধ্যে একটি বলে গণ্য করেছেন ট্রাম্প। এই দেশটির পণ্যে ৫৪ শতাংশ কর হার আরোপ করেছেন তিনি।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলেছে, ওয়াশিংটনের ‘উত্তেজনপূর্ণ আচরণ আত্ম-পরাজয়মূলক তর্জনে’ এবং ‘অতি সরলীকৃত ইটের বদলে পাটকেল খেলায়’ পরিণত হয়েছে।

ট্রাম্পের বুধবারের এই ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার কানাডা ও মেক্সিকোর কথা উল্লেখ করা হয়নি।

ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণ পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘প্রতিশোধমূলক’ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেন, “ফিরে বসো, এটা মেনে নাও। পাল্টা কিছু করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”