বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫, চৈত্র ২০ ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মানছে না রাশিয়া

 আপডেট: ২০:০০, ২ এপ্রিল ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মানছে না রাশিয়া

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনে যেসব ‘মূল কারণ’ রয়েছে বলে মস্কো মনে করে, সেগুলোর মীমাংসা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রাশিয়া মেনে নিতে পারে না বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি সংক্রান্ত সাময়িকীতে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত মডেল ও সমাধানগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি; তবে বর্তমানে সেগুলো যেভাবে আছে, সেভাবে আমরা মেনে নিতে পারি না।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত বন্ধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে সমঝোতা আলোচনায় এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাবে মতৈক্য হয়। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। পুতিন বলেন, শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।

গত রোববার ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে বলেন, পুতিন সমঝোতা আলোচনায় জেলেনস্কির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এবং ইউক্রেনে নতুন নেতৃত্বের আহ্বান জানানোয় তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের ওপর ‘রেগে আছেন’। পরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আশা করেন যে পুতিন একটি শান্তিচুক্তির জন্য তাঁর দিকের করণীয় সম্পন্ন করবেন।

রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াবকভ বলেছেন, ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির পরে এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানার জন্য ট্রাম্প বা ইউক্রেন কারও পক্ষ থেকে কোনো ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছে না মস্কো। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে আমাদের প্রধান চাওয়াগুলো স্থান পায়নি। এই সংঘাতের মূল কারণগুলো সম্পর্কিত সমস্যাগুলোর নিরসন জরুরি।’

রাশিয়ার কর্মকর্তারা বারবার এই যুদ্ধের ‘মূল কারণগুলো’ শব্দ ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে গত বছরের জুনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে হবে এবং ইউক্রেনের কিছু অঞ্চল থেকে দেশটির বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করে রাশিয়া। তখন থেকে দুই দেশের মধ্যে প্রাণঘাতী যুদ্ধ চলছে। এর আগে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করেছিল রাশিয়া।

জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলে বাংলার এক খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে ৩৫০ কোটি ইউরো দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। ইউক্রেনের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর মধ্যে ৩১০ কোটি ইউরো সহজ শর্তে ঋণ এবং ৪০০ কোটি ইউরো অনুদান।

এই সাহায্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন ফ্যাসিলিটি প্রোগ্রামের অংশ। ২০২৭ সাল পর্যন্ত ইইউ ইউক্রেনকে মোট পাঁচ হাজার কোটি ইউরো সহায়তা দেবে। এখন পর্যন্ত কিয়েভ ১ হাজার ৬০০ কোটি ইউরো পেয়েছে, যা দিয়ে তারা রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে।

এদিকে সুইজারল্যান্ডে রাশিয়ার ৮০০ কোটি ডলারেরও বেশি সম্পদ অবরুদ্ধ রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর মস্কোর সম্পদ অবরুদ্ধ করা শুরু হয়।

সুইস সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই অবরুদ্ধ সম্পদের পরিমাণ ৮৪০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এক বছরে আরও ১৮০ কোটি ডলারের সম্পদ চিহ্নিত করে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

অবরুদ্ধ সম্পদগুলোর মধ্যে রিয়েল এস্টেট, বিলাসবহুল গাড়ি ও শিল্পদ্রব্য রয়েছে। যদিও সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়, তবে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইইউর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি সমর্থন করছে।