ট্রাম্পের শুল্ক: শঙ্কায় পোশাক খাত, লড়াই কোন পথে?

“ভালো নাই ভাই; এক্সপোর্ট ইউএসএতে ৬০ শতাংশ (কোম্পানির মোট রপ্তানির)। বড় ধাক্কা আমাদের ওপর। বিশাল ধাক্কা।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক নীতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা বাদে এ প্রতিক্রিয়া জানালেন পোশাক রপ্তানিকারক শিল্পগোষ্ঠী স্প্যারো’র এমডি শোভন ইসলাম।
ট্রাম্পের আমেরিকাকে ফের মহান করার খায়েশ দুশ্চিন্তায় ফেলেছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় এ শিল্পগোষ্ঠীকে। তারা বিশ্বের ২০টি দেশের ৪০টি ক্রেতা কোম্পানির সঙ্গে বাণিজ্য করলেও বেশিরভাগ কার্যাদেশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ২টার পর হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন সম্পূরক শুল্কহার ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি নতুন ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ নীতির অংশ হিসেবে শতাধিক দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যাতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ৩৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের মুখোমুখি হবে।
এতদিন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ, এখন নতুন করে আরও ৩৭ শতাংশ শুল্ক বাড়ায় এটি দাঁড়িয়েছে ৫২ শতাংশে। অর্থ্যাৎ ১০০ টাকার পণ্য রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে দিতে হবে ৫২ টাকা, এতদিন যা ছিল গড়ে ১৫ টাকা। তাতে করে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের পণ্যের দাম বাড়বে বলে মনে করেন স্প্যারো গ্রুপের এমডি শোভন।
তিনি বলেন, “আগে যা ছিল তারপর অ্যাডিশন হল এই শুল্ক। এক্ষেত্রে ইন্ডিয়া খুবই সুবিধাজনক পজিশনে আছে। ইন্ডিয়া তো তিন বিলিয়ন ডলার ডিউটি কামাইছে।”
ট্রাম্প আসার পর ভারত শুল্ক কমানোয় তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কম শুল্ক আরোপ করেছে, তার মাধ্যমে এই আর্থিক সুবিধা মিলেছে বলে শোভনের ভাষ্য।
ভারতের পণ্যের ওপর ২৭ শতাংশ (তালিকায় আছে ২৬ শতাংশ, তবে অফিসিয়াল আদেশে ২৭ শতাংশ বলা হয়েছে) শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প, যা বাংলাদেশ বা ভিয়েতনামের মত প্রতিযোগী দেশের তুলনায় কম।
ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা এসেছে। কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, পাকিস্তানের পণ্যে ২৯ শতাংশ এবং মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমএইর সাবেক পরিচালক শোভন বলেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা কমার শঙ্কা তৈরি হওয়ায় সেখান থেকে আসা সব পণ্যের আমদানি শুল্ক তুলে দেওয়া দরকার।
বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৮৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, যার মধ্যে তৈরি পোশাকই ৭৩৪ কোটি ডলারের।
অবশ্য পোশাক খাতে বাংলাদেশের প্রতিযোগী বেশিরভাগ দেশের ওপরও কাছাকাছি অংকের শুল্ক বসায় প্রতিযোগিতায় তেমন পিছিয়ে থাকার শঙ্কা দেখছেন না সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
তার ভাষ্য, “এই শুল্কহার আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের উপরেও বসছে। সুতরাং রিলেটিভ সেন্সে ইউএস মার্কেটে আমাদের প্রতিযোগিতার দিক থেকে বড় ধরনের কিন্তু পরিবর্তন হবে না।
“আর হল ইউএস তো অ্যাপারেল প্রডিউস করে না যে তার ডমেস্টিক প্রডিউসারদের কাছ থেকে তাদের কনজিউমাররা কিনবে। কিনবে তো ইম্পোর্ট থেকেই। সুতরাং সেই ইমপোর্টের কম্পিটিটিভ এনভারমেন্ট কিন্তু তেমন চেঞ্জ হয় নাই।”
তবে শুল্কের ধাক্কায় বাণিজ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারে সামগ্রিক চাহিদা কমার কমার শঙ্কা দেখছেন এ অর্থনীতিবিদ।
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর বলেন, “এখন গ্লোবাল এই যে- ট্রেড ওয়ার শুরু হবে, তারপরে অনেক দেশই ট্যারিফ বসাবে আবার। এগুলোর একটা তো এফেক্ট হবে আরকি।
“ওভারঅল ডিমান্ড ইন ইউএসএ, আবার ওভারঅল গ্লোবাল ডিমান্ড কমে যাবে। ফলে গ্লোবালি হয়ত স্লোডাউন করবে ট্রেড।”
ট্রাম্প কীভাবে শুল্ক ঠিক করলেন?
ট্রাম্প নতুন শুল্ক নীতি ঘোষণার দিনকে বর্ণনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এই দিনের জন্য অপেক্ষা করছে দীর্ঘদিন ধরে।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তালিকায় বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ মার্কিন পণ্যের ওপর ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় এখন থেকে বাংলাদেশি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৩৭ শতাংশ ‘হ্রাসকৃত সম্পূরক শুল্ক’ আরোপ করা হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, মার্কিন রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে যেসব দেশ উচ্চ শুল্কের বাধা তুলে রেখেছে, তাদের তথাকথিত সেই ‘অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন’ মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপ।
নতুন নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সমস্ত দেশের আমদানির ওপর প্রাথমিকভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে, যাকে বলা হচ্ছে বেইজ লাইন ট্যারিফ। আর যেসব দেশ হোয়াইট হাউসের ভাষায় ‘কারসাজি’ করে ডলারের মান নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং সুরক্ষামূলক শুল্ক ও অশুল্ক বাধা আরোপ করে রেখেছে, তাদের ক্ষেত্রে উচ্চ হারের সম্পূরক শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
ট্রাম্প যে শুল্কহার প্রকাশ করেছেন, তার এক ঘরে লেখা রয়েছে ‘মার্কিন পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক’, তার পাশের ঘরে লেখা হয়েছে ‘হ্রাসকৃত সম্পূরক শুল্ক’। প্রথম ঘর দেখে মনে হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র যেসব পণ্য রপ্তানি করে, সেসব পণ্যে গড়ে ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে বাংলাদেশ।
কিন্তু এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা বেশিরভাগ পণ্যে শূন্য বা ১ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। গ্যাসে রয়েছে ৩১ শতাংশ, আর ভোজ্যতেলে এখন শুল্ক কমানো হয়েছে।
তাছাড়া বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশকে নিশানা করে বা কান্ট্রি অব অরিজিন ধরে শুল্ক আরোপ করে না। এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্য নীতির ‘সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে জানান এনবিআরের কাস্টমস নীতি শাখার জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব ধরনের শুল্ক হার বসে এইচএস কোডের ওপর, যা সব দেশের জন্য প্রযোজ্য।
পণ্যের শ্রেণিকরণ ও চিহ্নিতকরণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এইচএস কোড বা হারমোনাইজড সিস্টেম কোড ব্যবহৃত হয়। এই আন্তর্জাতিক মান ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানিতে শুল্কহার ঠিক করা হয়।
তবে বিভিন্ন পণ্যের ওপর ‘প্যারা ট্যারিফ’ থাকায় সাকুল্যে শুল্ক বেড়ে যায়। যেমন তুলা, রেফ্রিজারেটর, যন্ত্রপাতিতে ০ ও ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক রয়েছে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট রয়েছে ১৫ শতাংশ। অগ্রিম আয়কর ও আগাম কর রয়েছে ১০ শতাংশ। ফলে শুল্কের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২৬ শতাংশে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক হার নির্ধারণে কোন দেশ কতটা আরোপ করেছে তা আমলে নেয়নি। বরং ওই দেশের সঙ্গে যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাকে ভাগ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশের রপ্তানির পরিমাণ দিয়ে। সেই ভগ্নাংশকে পূর্ণ সংখ্যা ধরে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, সেটিই ‘মার্কিন পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক হার’। আর ট্রাম্পের ‘দয়ার’ নিদর্শন হিসেবে তার অর্ধেক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের (ইউএসটিআর) তথ্য বলছে, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ সেখানে রপ্তানি করে ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। যা ভাগ করলে দাঁড়ায় প্রায় .৭৪, যাকে ৭৪ শতাংশ শুল্কহার হিসাবে দেখিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তার অর্ধেক হিসেবে ৩৭ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে বাংলাদেশের জন্য।
তবে এ হিসাবে ‘গলদ’ দেখছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনোমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, “এখন একটা জিনিস দেখেন, আরো যে ইনফরমেশন বের হচ্ছে- দেখাচ্ছে যে, যেভাবে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফগুলো ক্যালকুলেট করা হয়েছে, এগুলোতে বেশ ভালো রকমের গলদ আছে।
“বাংলাদেশের জন্য যে ৭৪ শতাংশ ক্যালকুলেট করা হয়েছে, সেটা দেখছি যে টোটাল যে ট্রেড ডেফিসিট আছে বাংলাদেশের- ইউএস এর সাথে, সেটার সঙ্গে বাংলাদেশ ইউএসএ মার্কেটে যে রপ্তানি করে সেটাতে ভাগ করে করা হয়েছে। এটা সব দেশের জন্য তাই।
“এটা যদি সত্য হয়, তাহলে প্রথম হচ্ছে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের রেটগুলো খুবই প্রবলেমেটিক।”
অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজ বলেন, “তারা তাদের মত করে হিসাব করে মনে করছে যে- বাংলাদেশের যে শুল্ক মার্কিন ইমপোর্টের উপরে আরোপ করা হয়, সেটা তারা হিসাব করছে যে ৭৪ শতাংশের সমান।
“ইউএসটিআর এগুলা হিসাব করছে কীসের বেসিসে? এই যে আমাদের মানে আমাদের মার্কিন ইনপোর্টের উপরে আমাদের ৭৪ শতাংশ আমাদের ডিউটি আছে- এইটা আমার কোনো হিসাবের মধ্যে কিন্তু পড়ে না।”
এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “আমরা মেইন যা ইম্পোর্ট করি তা হলো কটন। তারপরে আমরা ইম্পোর্ট করি স্ক্র্যাপ আয়রন। আর হল পেট্রোলিয়াম গ্যাস। কটনে তো আমাদের (শুল্ক) শূন্য; স্ক্র্যাপ আয়রন- ওখানে ডিউটি শূন্য।
“শুধুমাত্র পেট্রোলিয়াম গ্যাসে আমাদের ডিউটি আছে ৩১ শতাংশ। তারা হয়ত কেবল ইমপোর্ট ডিউটি হিসাব করে নাই। তারা এক্সচেঞ্জ রেট হিসাব করছে, ট্রেড পলিসি হিসাব করছে।”
বাংলাদেশ যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করে, তার মধ্যে রয়েছে- খাদ্যশস্য, বীজ, সয়াবিন, তুলা, গম, ভুট্টা, গ্যাস, ভোজ্যতেল, রেফ্রিজারেটর, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাত পণ্য। এর মধ্যে ৪০০ মিলিয়নের মত অর্থের কেবল তুলা আমদানি করা হয়।
আর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে- তৈরি পোশাক, জুতা, টেক্সটাইল সামগ্রী ও কৃষিপণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে কেবল পোশাকেরই বাজার হিস্যা ৯০ শতাংশ।
সুবিধা পাবে ভারত
এশিয়ার অন্যান্য দেশে তুলনামূলক শুল্ক বেশি আরোপ হওয়ায় রয়টার্স লিখেছে, এর ফলে ভারতের পোশাক পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবে।
একই কথা বলছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।
ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডের এমডি এহসান বলেন, “ইন্ডিয়া কিন্তু এখানে একটা বেটার পজিশনে চলে গেছে; কারণ ইন্ডিয়ার ডিউটি কিন্তু ১১ শতাংশ কম ২৬ শতাংশ।
“আমরা যে আইটেমটা আমাদের প্রধান রপ্তানির আইটেম, সেখানে কিন্তু আসলে এই মানে ৪/৫ পার্সেন্ট অনেক বড় ফ্যাক্টর হয়ে দেখা দেয়। আর হ্যাঁ, কারণ- আমাদের খুব লো প্রফিট মার্জিনের বিজনেস; এই আইটেমগুলাই তো সেই জায়গাটা থেকে এলে এইখানে একটু আমাদের উপর একটা ঝামেলা আসবে।”
ভিয়েতনাম ও চীনকে প্রতিদ্বন্দ্বী ধরা হলেও ভারতকে সেভাবে ধরা হত না। তারপরও কীভাবে পোশাকের বাজারে ভারত এখন সুবিধা পাবে?
তিনি বলেন, “ভিয়েতনাম- আমরা এই জায়গা থেকে সুবিধা পাচ্ছি। কিন্তু ইনডিয়া, পাকিস্তান ইউএসের মার্কেটে কি বড় কম্পিটিটর আমাদের? তবে হবে, যখন নাকি তার সক্ষমতা বাড়বে, তখন কিন্তু অটোমেটিক এখান থেকে সে ওই মার্কেটে গ্র্যাব করবে। তার তো গার্মেন্টসের সক্ষমতা আছে, মানে গার্মেন্টসের অলরেডি লাইনআপ আছে।
“...ইন্ডিয়াটাই এখন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমরা আসলে অন্যগুলোকে চ্যালেঞ্জ খুব বেশি হিসেবে দেখতেছি না।“
স্প্যারো গ্রুপের এমডি শোভন বলেন, “আমাদের তো সব দিকে পিছিয়ে। আমরা ডিউটি দিয়ে যতটুকুই পাত্তা পাই, মোদ্দাকথা তুলনামূলক এফিশিয়েন্সি অন্য জায়গা থেকে আমরা পেছনে তো। ইন্ডিয়ার সঙ্গে তুলনা করলে তো সব জায়গায়ই আমরা পেছানো।”
তিনি মনে করেন, ভারত এখন তার সক্ষমতার পুরোটাকেই কাজে লাগাবে, আর তাতে তাদের বাজার সম্প্রসারিত হবে।
অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, “ইনডিয়ার ওপরে ২৬ শতাংশ, আমাদের ওপর ৩৭ শতাংশ। এখন ইনডিয়া তো অনেক একটা আপার হ্যান্ডে চলে যাবে। মানে অনেক অনেক প্রডাক্টে, বিশেষ করে গার্মেন্টসের ক্ষেত্রে আমার কাছে মনে হয়।
“ইনডিয়াতে কিন্তু তারা যখনই জানুয়ারি মাসে এই কথাবার্তা শুনেছে, তখনই তারা বসেছে। ইনডিয়ান পলিসি মেকাররা তারা কিন্তু নানা রকম স্টেপ নিচ্ছে।”
বাংলাদেশের কি পূর্ব প্রস্তুতি ছিল?
দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার পরপরই বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক বাড়ায়। চীন, কানাডা, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশ সেই খড়্গে পড়ে। এরইমধ্যে অন্যান্য দেশেও ট্রাম্প শুল্কারোপের হুমকি দিলে অনেক দেশ তাদের বাণিজ্য পর্যালোচনা করেছে; শুল্ক কমিয়েছে আমদানি পর্যায়ে।
সেই তালিকায় রয়েছে ভারত, শ্রীলঙ্কার মত দেশ। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের তরফে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জেনেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। মঙ্গলবার সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তাদের তরফে বলা হয়, শুল্ক আরোপ করলে তখন কৌশল নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের প্রস্তুতি না থাকা নিয়ে সেলিম রায়হান বলেন, “বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারকরা মনে হয় একটা কমফোর্ট জোনে ছিলেন। তারা ভাবছিলেন যে, এটা বুঝি ইন্ডিয়া অথবা এরকম কয়েকটা দেশের উপরে হবে; বাংলাদেশের মত দেশে হবে না।
“কিন্তু আমি কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের ১৯ ও ২০ তারিখে দুটো ওপেড লিখেছিলাম; সেখানে কিন্তু স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে, বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি আছে।”
অধ্যাপক সেলিম বলেন, “গত রাতে ট্রাম্প যে অ্যানাউন্সমেন্টগুলো করল, আমরা কিন্তু এখন পর্যন্ত এনবিআরের পক্ষ থেকে সেরকম কোনো… অথবা ইম্পর্টেন্ট পলিসি মেকারের পক্ষ থেকে সেরকম কোনো রিঅ্যাকশন পাইনি।”
শিল্পপতি শোভন ইসলাম বলেন, “অল আমেরিকান গুডস হান্ড্রেড পার্সেন্ট ডিউটি ফ্রি টু শ্রীলঙ্কা। দ্যাট প্রপোজাল শ্রীলঙ্কা ইজ মেকিং। ইন্ডিয়া ইজ কামিং ব্যাক এগেইন। ভিয়েতনাম ইজ কামিং ব্যাক ফর ফারদার নেগোসিয়েশন। সেখানে বাংলাদেশ কিছুই করেনি।”
আরেক রপ্তানিকারক এহসান বলেন, “দেখেন, ট্রাম্প কিন্তু খুব খুব স্ট্রিক্ট; উনি বলছেন যে- এভারেজ ডিউটি কত, তার থেকে উনি হাফ ডিউটি বসিয়েছেন। এরকম কিছু একটা দেখলাম যে সরলীকরণ করে উনি বসাইছেন।
“এখন আপনি যদি বলেন যে- ‘না এটা তো ভদ্রতা না, উনি জানেন না আমি কোথায় আছি, ঠিক আছে আগে উনি অ্যাকশন নিক, পরে দেখব। এটা তো হল না।”
অ্যাপারেলস লিমিটেডের এমডির ভাষ্য, “এখন আমরা যদি তাদেরকে আগে একটু ইনফরমেশন... যারা এটা নিয়ে কাজ করছে, যদি আগে থেকে বলা হত, ‘দেখ তুমি যেটা মনে করো, এটা তা না। আসলে এইচএস কোড বেস আমার, কোনো কান্ট্রি বেজ না এবং তুমি যে আইটেমগুলো এক্সপ্লোর কর- আমাদের কিন্তু সব জিরো রেইট।।”
কী করতে পারে বাংলাদেশ?
বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “এই মুহূর্তে আসলে আমাদের যে অ্যাকচুয়াল সিনারিওটা আছে- এটা আমাদের বুঝিয়ে বলতে হবে- এদেরকে, মানে ট্রাম্প প্রশাসনের যারা এর সাথে জড়িত এবং সেখানে আসলে আমাদের কাজটা করতে হবে। এর বাইরে আসলে কোথাও কাজ করার কিছু নেই।
“এটা যেহেতু উনারা এটা দিছেন, ফলে অবশ্যই উনাদের সাথে আমাদের এই জায়গাটায় নেগোসিয়েশনে যেতে হবে আরকি।”
অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, “একটা জিনিস খেয়াল করতে হবে যে- আমরা কিন্তু ইউনিলিটারালি ইউএসের জন্য ট্যারিফ কমাতে পারব না। এটা ডব্লিউটিও কনসিস্টেন্ট না। করতে হলে আমাদের সবার জন্যই করতে হবে। সেগুলো পর্যালোচনা করা। আমাদের প্যারা ট্যারিফ অনেক হাই। সবসময়ই বলে আসছি। এগুলো র্যাশনালাইজ করা।
“দ্বিতীয়ত হচ্ছে, আমরা তো জানি যে- আমাদের কম্পিটিটিভনেস বাড়াতে হবে। প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শুধুমাত্র শ্রমের কম মূল্যের উপর নির্ভর করে আমাদের যে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা- এটা দিয়ে কিন্তু আমরা (টিকতে) পারব না।
“এবং এই ধরনের গ্লোবাল, এই ধরনের একটা আনপ্রেডিক্টেবল ট্রেড রেজিমে বাংলাদেশের মত দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে ওই দেশগুলো সারভাইভ করবে, যাদের কিন্তু প্রতিযোগিতার সক্ষমতা তুলনামূলক ভালো।”
বাংলাদেশ কেন ক্ষতির মুখে পড়বে তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “আপনি যদি দেখেন- তাদের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ভালো, তাদের শ্রমিকের দক্ষতা আছে। তারপর ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনাভাবে ব্যাংকগুলো ভালো অবস্থায় আছে।
“ফিনান্সিয়াল সেক্টর বেটার। তারা ভালো করবে। কিন্তু বাংলাদেশ এসব জায়গায় অনেক বেশি পিছিয়ে। সুতরাং আমাদের শঙ্কার জায়গাটা কিন্তু অনেক বেশি।”
বাংলাদেশ এখন কী করতে পারে, এমন প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক মোস্তাফিজ বলেন, “আমরা যা করতে পারি, সেটা হল যে- আমাদের তো টিকফা আছে। যেহেতু একটা প্ল্যাটফর্ম আছে। আগেই যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা করা উচিৎ ছিল। তারা তো তা করে নাই।
“এখন কিন্তু আমরা টিকফার মাধ্যমে সেখানে কিন্তু এই আলোচনা তুলতে পারি যে- তোমরা কীভাবে হিসাবটা করছ, এই যে ৭৪ শতাংশের যে হিসাবটা করছ তোমরা; যেটা থেকে এখন অ্যাডিশনাল ৩৭ শতাংশ দিলা। এবং টোটাল দাঁড়াইলো ৫২। এটা তোমরা কীভাবে হিসাব করছে- এটা আমরা জানতে চাইতে পারি।”
তিনি বলেন, “আমাদের এখন আমার মনে হয় যে- আমাদের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করা উচিত। কারণ হল যে- এইটা কতদিন থাকবে, এইটা কিন্তু বলা হয় নাই। এবং তারা এগুলো নেগোশিয়েট করতে থাকবে। তারা বিভিন্ন দেশের সাথে নেগোশিয়েট করবে।
“যেমন ইসরাইল ইউএসে সব ইম্পোর্টের ওপরে জিরো করে দিছে। তারপরে থাইল্যান্ড বলছে যে- ‘আমরা ইউএস থেকে ইম্পোর্ট আরও বাড়াব’। তো নানান জন কিন্তু নেগোসিয়েশন করবে।
“তাছাড়া বাংলাদেশ যেহেতু তুলা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করে পোশাক বানিয়ে সেখানেই রপ্তানি করে, এখানেও সুযোগ থাকবে নেগোসিয়েশনের।”
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজ বলেন, “এটা বলা যে- তোমাদের থেকে আমদানি করে তৈরি পোশাক আমরা বানিয়ে আবার তোমাদের কাছে বিক্রি করব। ওখানে কিন্তু যেটা নাকি ট্রাম্প বলছে, ওটার মধ্যে কিন্তু একটু ফাঁক আছে যে- ইউএস কমোডিটি নিয়ে যারা নাকি প্রডিউস করবে, তাদের ক্ষেত্রে কিছু শিথিল তারা করবে পরবর্তীতে।
“তো এসবের জন্য আমার মনে হয় যে টিকফাকে ব্যবহার করে প্রস্তুত থাকা বাংলাদেশের জন্য এখন করণীয়।”
সরকার এখন কী করছে?
এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলছেন, “আমরা নরমালি যেটা করি যে- বাজেটারি মেজারের সময় আমরা করি, এখন তো আমাদের বাজেট প্রসেস হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের বিষয়টি এখানে তো একটা কনসিডারেশনে ছিল।
“আর এটা ধরেন আমাদের একার জন্য না, সারা ওয়ার্ল্ডওয়াইড হয়েছে। তারা তো বলেছে যে এটা নিয়ে একটা নেগোসিয়েশনের সুযোগ থাকবে। তাদের এই অ্যাকশনের পরে আমরা কী অ্যাকশন নিই- তারপর ওরা আবার ফারদার অ্যাকশনে যাবে মনে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে আগামী রোববার অর্থ উপদেষ্টা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “ডেফিনেটলি আমাদের কিছু মেজার নিতেই হবে। অবশ্যই জাতীয় স্বার্থে আমাদের যা যা করা দরকার- নিশ্চয়ই আমরা করব।”
তাছাড়া 'কান্ট্রি অব অরিজিন' ধরে বাংলাদেশ শুল্কারোপ করেনি জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, “উনারা হিসাব করে যে- কোন দেশ থেকে কোন জিনিস কোথায় যায়। ইউএস এর যেই প্রোডাক্ট বাংলাদেশে আসে, ওইটার এই শুল্কের উপরে বসানো মানে- তারা ধরে নেন, তাদের উপরে বসানো হয়েছে।
“ইউএস থেকে তো নরমালি আমরা কটন, তারপরে এডিবল ওয়েল- এরকম কিছু আমদানি করি। এর বাইরে মানে মেজর কী ইমপোর্ট করি- আমরা এখন সেই কাজ করতেছি। সেখান থেকে কত টাকা রাজস্ব আদায় হয়, এই ডেটা এখন আমার হাতে আসে নাই, আমরা কাজ শুরু করছি।”
মার্কিন পণ্য থেকে কত শুল্ক পায় বাংলাদেশ?
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৫ হাজার ৪০৭ কোটি টাকার ২৫ লাখ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করেছে; যেখান থেকে আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আদায় করেছে ১ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা।
অর্থাৎ গড়ে এসব পণ্যে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ শুল্ক আদায় করেছে।
ওই অর্থবছর বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি আমদানি করেছে স্ক্র্যাপ আয়রন। ৬ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ আয়রন আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ শুল্ক আদায় করেছে ২১০ কোটি টাকা।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি আমদানি করেছে স্ক্র্যাপ আয়রন। ছবি: রিসাইক্লিং ইন্টারন্যাশনাল
আড়াই হাজার সিসির বেশি এবং তিনহাজার সিসির বেশি বা সমান নয় এমন ইঞ্জিনের ১১১টি গাড়ি আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ খরচ করেছে ৮০ কোটি টাকা; শুল্ক আদায় করেছে ১৫৪ কোটি টাকা।
ডিজেল বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভ আমদানি করা হয়েছে ৫২৪ কোটি টাকার; শুল্ক আদায় করা হয়েছে ১০৮ কোটি টাকা।
২০০১ থেকে ২৫০০ সিসি ইঞ্জিনের ৭০টি গাড়ি আমদানি করতে খরচ হয়েছে ৩১ কোটি টাকা; বিপরীতে শুল্ক আদায় হয়েছে ৪১ দশমিক ৬৮ কোটি টাকা।
আড়াই হাজার সিসির বেশি ৩ হাজার সিসির কম এমন ইঞ্জিনের ২৬টি গাড়ি আমদানি হয়েছে। আমদানি মূল্য ছিল ২০ কোটি টাকা; বিপরীতে শুল্ক আদায় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৮১ কোটি টাকা।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৫ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এসব পণ্যের আমদানি মূল্য ছিল ৩০ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা; বিপরীতে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক আদায় হয়েছে ১ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা।
অর্থাৎ এসব পণ্যের বিপরীতে গড়ে ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ শুল্ক আদায় করেছে বাংলাদেশ।
সবচেয়ে বেশি শুল্ক আদায় করা পণ্যের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে স্ক্র্যাপ আয়রন। ৭ হাজার ৫৭১ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ আয়রন আমদানির বিপরীতে ২৩৬ কোটি টাকা শুল্ক আদায় হয়েছে।
একই অর্থবছরে ৭০২ কোটি টাকার তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করেছে বাংলাদেশ; বিপরীতে শুল্ক আদায় হয়েছে ১০৫ কোটি টাকার।
আড়াই হাজার সিসির বেশি এবং তিনহাজার সিসির বেশি বা সমান নয় এমন ইঞ্জিনের ৫২টি গাড়ি আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ খরচ করেছে ৪৩ কোটি টাকা; শুল্ক আদায় করেছে ৮৩ দশমিক ১৮ কোটি টাকা।
পেট্রোলিয়াম তেল ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে ২৯৯ কোটি টাকার; শুল্ক আদায় হয়েছে ৬২ কোটি টাকা।
ডিজেল বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভ আমদানি করা হয়েছে ২২৭ কোটি টাকার; শুল্ক আদায় করা হয়েছে ৪৭ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের মার্চ মাস পর্যন্ত প্রথম নয়মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ২৭ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টনের পণ্য। এর আমদানি মূল্য ছিল ২২ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা এবং শুল্ক আদায় হয়েছে ১ হাজার ১০ কোটি টাকা।
অর্থাৎ গড়ে শুল্ক আদায় হয়েছে ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।