শিল্পকলার ৫১ বছর: আরও জনবান্ধব করার সংকল্প

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ৫১ বছর পূর্তি হলো বুধবার। বিশেষ এই দিনে আলাদা কোনো ঘোষিত অনুষ্ঠান আয়োজন করেনি প্রতিষ্ঠানটি। তবে নানা কর্মসূচির মধ্যেই কেউ কেউ শিল্পকলা একাডেমিকে শুভেচ্ছাও জানান।
বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে চলছে ‘মুনীর চৌধুরী জাতীয় নাট্যেৎসব’। উৎসবে একদল শিশুকে কেক কাটা হয় বলে জানান অভিনয়শিল্পী ও নাট্যনির্দেশক কাজী রোখসানা রুমা।
এদিকে বুধবার এক বার্তায় শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেছেন, “দিনটি উপলক্ষ্যে আমরা বিশেষভাবে কোনো আয়োজন করছি না। কারণ প্রান্ত থেকে কেন্দ্র নানামুখী উৎসব আয়োজনের মাধ্যমেই আমরা প্রতিদিন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছি।
“আমরা মনে করি শিল্পকলাকে মানুষের কাছে পৌঁছাতে উৎসব আয়োজনের বিকল্প নেই। এই নানামুখী অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমেই আমরা নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেই।”
বার্তায় জামিল আহমেদ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি সংস্কৃতির অবস্থান মানুষের জীবনের কেন্দ্রে। আমরা উৎসবের আমেজে পৌঁছতে চাই জনগণের কাছে, দেশব্যাপী, তৃণমূল পর্যায়ে। বাংলাদেশ হাজারো নদীর দেশ, যেখানে হাজার বাঁকে স্রোত বয়ে চলে নিরন্তর। তারই অনুপ্রেরণায় বহু মত, বহু জনকে ধারণ করে আমাদের সামষ্টিক পরিচয় গড়ে তোলা সম্ভব।”
বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে কেক কাটা হয়। ছবি: অভিনয়শিল্পী কাজী রোখসানা রুমার সৌজন্যে।
শিল্পকলার মহাপরিচালক বলেন, “সাম্প্রতিককালে আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি বাউল শিল্পী সমাজের, যাদের সম্প্রীতি ও সাম্যের বার্তার সাথে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করি।
“এরইমধ্যে আমরা জেলা পর্যায়ে মিলনায়তনের ভাড়া অর্ধেকের কমে নির্ধারণ করেছি, যা বহু বছর ধরে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর দাবি এবং আমাদের গণমুখী কার্যক্রমের ধারবাহিক প্রয়াস। আমরা মনে করি আমাদের বর্ষপূর্তি উদযাপন করার অংশীদার আমাদের দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীরা, আর আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চাই একাডেমিকে জনবান্ধব করবার সংকল্পে।”
একাডেমির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলার চর্চা ও বিকাশের উদ্দেশে ১৯৭৪ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় শিল্পকলা একাডেমি।
শিল্পকলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক ছিলেন মুস্তাফা নূর-উল ইসলাম।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ছয়টি বিভাগ নিয়ে গঠিত। বিভাগগুলো হলো চারুকলা, নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র, সংগীত নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগ, গবেষণা ও প্রকাশনা, প্রশিক্ষণ, প্রযোজনা বিভাগ।
ছয়টি বিভাগ পরিচালিত হয় ছয় জন পরিচালকের দায়িত্বে। একাডেমির সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তা হচ্ছেন মহাপরিচালক। সরকার কর্তৃক নিযুক্ত এই মহাপরিচালকই সার্বিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমানে এর কার্যক্রম উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত।