চট্টগ্রামে জোড়া খুন: দুজন গ্রেপ্তার

জোড়া খুনের ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেনের দুই সহযোগী
চট্টগ্রামে আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. বেলাল (২৭) ও মো. মানিক (২৪)। তাঁরা ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে বেলাল ও মানিককে নগর ও জেলার ফটিকছড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে তাঁদের প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণ করতে দেখা গেছে।
বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।
গত শনিবার রাতে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে বাকলিয়া অ্যাক্সেস রোডে আসার পথে এক প্রাইভেট কারে হামলা চালানো হয়। পাঁচটি মোটরসাইকেল পেছন থেকে গাড়িটিকে ধাওয়া করে এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। প্রাইভেট কারের ভেতর থেকেও পাল্টা গুলি করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত হন বখতিয়ার হোসেন (৩০) ও মো. আবদুল্লাহ (৩২), যাঁরা ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেনের অনুসারী ছিলেন। সরোয়ারও গাড়িতে ছিলেন, তবে প্রাণে বেঁচে যান।
নিহত বখতিয়ারের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এতে সাজ্জাদ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী তামান্না শারমিনসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মো. হাছান, মোবারক হোসেন, মো. খোরশেদ, মো. রায়হান ও মো. বোরহান।
পুলিশ জানায়, সাজ্জাদ ও সরোয়ার দুজনই বিদেশে পলাতক আট খুনের মামলার আসামি শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ আলীর অনুসারী ছিলেন। তবে এক দশক আগে সরোয়ার ওই গ্রুপ থেকে বেরিয়ে আসেন, এরপর থেকে তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
গত ৫ আগস্ট জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। একপর্যায়ে সরোয়ারকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়, তবে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর দুই অনুসারী প্রাণ হারান।
পুলিশ আরও জানায়, গত ১৫ মার্চ ঢাকার একটি শপিং মলে এক দম্পতি সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর অনুসারীরা সরোয়ারকে হত্যার চেষ্টা করেন। সাজ্জাদ ও তাঁর স্ত্রী তামান্নার বিরুদ্ধে থানায় মামলাও করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনার পেছনের মূল ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।