বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫, চৈত্র ২০ ১৪৩১, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৬

জাতীয়

সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রের বাসায় হামলা

 প্রকাশিত: ২২:৩৩, ২ এপ্রিল ২০২৫

সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রের বাসায় হামলা

ভাঙচুর হওয়া আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসভবন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতার বাসায়ও হামলার ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে নগরে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের পর বিকেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নগরের পাঠানটুলা এলাকায় আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসায় ৭০-৮০টি মোটরসাইকেলে করে শতাধিক তরুণ-যুবক এসে হামলা চালায়। তারা বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাট চালায়। বাসাটিতে আনোয়ারুজ্জামানের পরিবারের কেউ থাকেন না। দুজন তত্ত্বাবধায়ক বাসার দেখাশোনা করেন।

এছাড়াও শুভেচ্ছা আবাসিক এলাকায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরীর (নাদেল) বাসভবনের ‘ফ্ল্যাট অ্যাপার্টমেন্ট কার্যালয়’ এবং মেজরটিলা এলাকায় ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রুহেল আহমদের বাসায় হামলা চালানো হয়। সন্ধ্যা সাতটায় রুহেলের বাসায় হামলার সময় তার মা ও বোন বাসায় ছিলেন।

হামলার পর দেখা যায়, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাড়ির বসার ঘর থেকে শুরু করে প্রায় সব কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। দরজা-জানালার কাচ ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে। আলমারি, চেয়ার-টেবিল, ফ্রিজ, এসি ও সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত ভাঙচুর করা হয়েছে।

একটি সূত্র দাবি করেছে, বুধবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ছাত্রলীগের ব্যানারে ৩০-৪০ জন তরুণ ধোপাদিঘিরপাড় এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেন। এতে ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের বাসায় হামলা চালান। চারজন প্রত্যক্ষদর্শী হামলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনার পর পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে জানতে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “আমি শ্রীমঙ্গল ছিলাম। একটু আগে ফিরেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। ছাত্রলীগ এমন ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্রদলের ওপর দোষ চাপিয়েছে, এমন নজিরও আছে। তবে বিএনপি কোনো হিংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। যদি এমন হামলা ভাঙচুর হয়, এটা সমর্থনযোগ্য নয়।

সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছে। আনোয়ারুজ্জামান বর্তমানে লন্ডনে, শফিউল আলম চৌধুরী কলকাতায় এবং রুহেলও দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি এবং দোষীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’